রেড ডেভিলদের রুখতে প্রস্তুত পচেত্তিনোর শিষ্যরা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ০-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছিল এবারের আসরের তিন আয়োজকের একটি। অপর দিকে আফ্রিকার দেশ সেনেগালের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো ৩-২ গোলের জয় ছিল ইউরোপের দেশটির। এবার তাদের সামনে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই। শেষ ৩২-এর ম্যাচে দুই দলের খেলার ধরন, কৌশল এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এটি হতে পারে টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ। এক দিকে ইউরোপের শক্তিশালী ফুটবল পরাশক্তি, অন্য দিকে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় কাল সকাল ৬টায় শুরু হবে সিয়াটলে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত বেলজিয়াম। তাদের স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দারুণ সমন্বয় রয়েছে। আক্রমণভাগে গতি, মাঝমাঠে সৃজনশীলতা এবং রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল তাদের বড় শক্তি। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পছন্দ করে তারা। ছোট ছোট পাস, দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলা এবং উইং ব্যবহার করে সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে বেলজিয়াম বরাবরই কার্যকর।

শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামার আগে বেলজিয়ামের জেনো ডেবাস্ট (পায়ের চোট) নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় সেই চোট থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছেন, যার কারণে তিনি এখন পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্টে মাঠের বাইরে রয়েছেন। এই বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচে লুকাকু দু’টি গোল করেছেন, কিন্তু ৩৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়কে ম্যাচের শুরুতে বেঞ্চে থাকতে হচ্ছে। যদিও ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তার মাঠে নামা প্রায় নিশ্চিত। চোট নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড ফিট আছেন, অন্য দিকে কেভিন ডি ব্রুইনা এবং জেরেমি ডকুও এই ম্যাচে রেড ডেভিলসদের হয়ে প্রথম একাদশে থাকবেন।

গত এক দশকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে। তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দলটি এখন শুধু শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং কৌশলগত ফুটবলও খেলতে সক্ষম। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক, উচ্চ গতির প্রেসিং এবং দলগত সমন্বয় তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। বড় দলের বিপক্ষে সুযোগ পেলেই আঘাত হানার মানসিকতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের।

চলমান বিশ্বকাপে তিনটি গোল করেছেন বালোগুন। তবে শেষ ষোলোর ম্যাচে তাকে পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। তার অনুপস্থিতি দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তার জায়গায় দেখা যেতে পারে ৪১ ম্যাচে ১৩ গোল করা রিকার্ডো পেপিকে। মার্ক ম্যাকেনজি (পায়ের আঘাত) এবং ক্রিশ্চিয়ান রোল্ডান (পেশীর আঘাত) চোটের কারণে কিছুটা অনিশ্চিত। তবে প্রথম একাদশে থাকবেন সার্জিনো ডেস্ট, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক এবং টাইলার অ্যাডামসের মতো খেলোয়াড়রা।

ফুটবলে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্র মোট ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বেলজিয়াম জিতেছে পাঁচটি ম্যাচে এবং যুক্তরাষ্ট্র জিতেছে মাত্র একটি ম্যাচে। কোনো ম্যাচ ড্র হয়নি। ১৯৩০ বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় বেলজিয়ামকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরের পাঁচ ম্যাচের কোনোটিতেই জিততে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। আর সবশেষ প্রীতি ম্যাচে গত ২৮ মার্চ বেলজিয়াম ৫-২ গোলে পরাজিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্রকে।