বছরের শেষ প্রান্তে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ইঙ্গিত

সূচক বেড়েছে ৫২ পয়েন্ট

স্বাভাবিক বাজারচক্র অনুযায়ী সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের বিক্রয়চাপ থাকার সম্ভাবনা কম। এ কারণে নতুন বছরের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক গতি অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
Printed Edition

বিক্রয়চাপের মধ্যেও বছরের শেষ দিনগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য সামনের সময় নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ফেলে আসা সপ্তাহে (২১-২৪ ডিসেম্বর) পুঁজিবাজারের আচরণ বিশ্লেষণ করে এমন মন্তব্য করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। বড়দিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর সরকারি ছুটি থাকায় গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে চার কার্যদিবস। এ চার দিনের মধ্যে দুই দিন সূচকে কিছুটা অবনতি দেখা গেলেও বাকি দুই দিন বাজার ছিল ইতিবাচক ধারায়। সপ্তাহ শেষে দেশের দুই শেয়ারবাজারই সূচকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাভাবিক বাজারচক্র অনুযায়ী সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের বিক্রয়চাপ থাকার সম্ভাবনা কম। এ কারণে নতুন বছরের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক গতি অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বেড়েছে। গত সপ্তাহের রোববার সূচক ছিল ৪ হাজার ৮৩১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট, যা বুধবার সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৮৩ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে সূচক বড় ধরনের পতনের মুখে পড়লেও শেষভাগে এসে প্রায় পুরোটা ঘুরে দাঁড়ায়। এর ধারাবাহিকতায় পরদিন সূচকে বড় ধরনের উন্নতি লক্ষ করা যায়। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও বাজারের ইতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল। একই সময়ে ডিএসই-৩০ সূচক ২২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বেড়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত বছরের শেষ সপ্তাহে বাজারে বিক্রয়চাপ কমে আসে। অর্থবছরের শেষ মাস হিসেবে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত যে বিক্রয়চাপ থাকে, শেষ সপ্তাহে তা অনেকটাই প্রশমিত হয়। এ সময় অনেক বিনিয়োগকারী নতুন বছরের ভালো অবস্থান নিশ্চিত করতে নতুন করে বিনিয়োগে যুক্ত হন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও একটি নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনাও বাজারে বাড়তি আশাবাদ তৈরি করেছে। দীর্ঘ দিন ধরে ধুঁকতে থাকা পুঁজিবাজার নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে- এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে সেবা খাতের বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৩ শতাংশ মুনাফা অর্জন করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মুনাফা হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে কাগজ খাত ২ দশমিক ৯ শতাংশ, পাট খাত ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং টেক্সটাইল খাত ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এসব খাতে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাজার সূচকের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এ ছাড়া জীবন বীমা খাতে বিনিয়োগকারীরা ১ দশমিক ৯ শতাংশ, ট্যানারি খাতে ১ দশমিক ৮ শতাংশ, সাধারণ বীমা ও জ্বালানি খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ করে, ব্যাংক খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং খাদ্য খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ মুনাফা পেয়েছেন। টেলিকম খাতে ০ দশমিক ৯ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে ০ দশমিক ৮ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ০ দশমিক ৭ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে ০ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা হয়েছে।

তবে সব খাতের চিত্র একই রকম ছিল না। সিরামিক খাতের বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ০ দশমিক ৮ শতাংশ লোকসানের শিকার হয়েছেন। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে লোকসান হয়েছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভ্রমণ খাতে লোকসান হয়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ।

লেনদেনের দিক থেকে বাজারে কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে ডিএসইতে গড় লেনদেন কমেছে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে যেখানে গড় লেনদেন ছিল ৩৮৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, সেখানে গত সপ্তাহে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল সেবা খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, যার গড় লেনদেন ছিল ১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা; মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সায়হাম কটন মিলস, যার গড় লেনদেন ১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় ছিল সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, লাভেলো আইসক্রিম, রহিমা ফুডস, মুন্নু ফেব্রিক্স, ফাইন ফুডস ও স্কয়ার ফার্মা।

মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক বন্ড, যা সপ্তাহে ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্য দিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, যা বোনাস শেয়ারের পর মূল্য সমন্বয়ের কারণে ৩২ দশমিক ৪৩ শতাংশ দর হারিয়েছে। সামগ্রিকভাবে বছরের শেষ প্রান্তে বাজারের এই ইতিবাচক প্রবণতা নতুন বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য আশাবাদের বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।