বৈধ ভিসা থাকার পরও অবৈধ তকমা দিয়ে লাশ পাঠালো বাংলাদেশ দূতাবাস

Printed Edition

আশরাফুল মামুন,মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় বৈধ ভিসা থাকা পরেও অবৈধ অভিবাসীর তকমা দিয়ে লাশ দেশে প্রেরণের ছাড়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। মৃত প্রবাসীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে গত ২৮ আগস্ট নরসিংদী সদরের হাটখোলা এলাকার মো: জাইদুল ইসলাম মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের সেরেম্বান শহরে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান। তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে সেরেম্বান শহরে লিম চং ভেজি মার্ট এসডিএন বিএইচডি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মৃত প্রবাসীর ভিসা যাচাই করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর ভিসার মেয়াদ শেষ হবে।

অথচ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৫ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে দেখিয়ে অবৈধ অভিবাসীর তকমা দিয়ে লাশের ছাড়পত্র দিলে চলতি মাসের ২ তারিখে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে জাইদুলের লাশ তার পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ভিসা থাকার পরেও অবৈধ অভিবাসীর তকমা দেয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে লাশ দেশে প্রেরণে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হওয়ায় নিয়োগকর্তা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মৃত জাইদুলের ভিসা নেই দেখিয়ে ২০২৫ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া কাগজপত্র দিয়ে লাশ প্রেরণের ছাড়পত্রের আবেদন করেন দূতাবাসে।

ছাড়পত্র দেয়ার আগেই এ বিষয়ে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট শাখায় অবহিত করলেও কোনো সুবিধার বিনিময়ে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ছাড়াপত্র দিয়েছে- দূতাবাস সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় থাকা বৈধ কর্মীর ভিসা নবায়নের সময় ইন্স্যুরেন্স করতে হয়। পরবর্তীতে কর্মীর চিকিৎসাসহ কোনো কারণে মৃত্যু হলে লাশ দেশে প্রেরণে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে ক্ষতি পূরণ পাওয়া যায়। দেশটির শ্রমআইন অনুযায়ী ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতা মূলক থাকলেও নিয়োগকর্তা সেটি না করায় লাশ দেশে প্রেরণসহ আইনি জটিলতা এড়াতে মিথ্যার আশ্রয় নেয়।

যদিও জাইদুল ইসলামের ভিসা মেয়াদ এখনো চলমান আছে জানিয়ে বিষয়টি দূতাবাসের লেবার উইংয়ে কর্মরত সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে আগেই অবহিত করা হয়। পূর্বে অবহিত করার পরেও কেন অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ছাড়পত্র দেয়া হলো জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম জানান, ভিসা কিভাবে চেক করতে হয় সেটা আমাদের জানা নাই। এমনকি আগাম অবহিতকরণের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী লেবার কাউন্সিলর সৈয়দ শরিফুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকার কল দিলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার মো: সিদ্দিকুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বৈধ ভিসা থাকার পরেও অবৈধ হিসেবে যদি ছাড়পত্র দেয়া হয় তাহলে সে বিষয়ে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আরো জানতে কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুর করিম খান চৌধুরীকে ফোন দিলে তিনি কলটি কেটে দিয়েছেন।