সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
মহাসড়কে গতিসীমা লঙ্ঘন, উল্টো পথে চলাচল ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন ভাঙলেই এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনাঘাটে হাইওয়ে পুলিশ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল মনিটরিং সেন্টারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরাভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেইট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়কে এক হাজার ৪২৭টি সিসিটিভি ক্যামেরাসহ মোট ৪৯০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া আইন লঙ্ঘনের তথ্য সরাসরি বিআরটিএর ডাটাবেজে চলে যাবে এবং গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার তথ্য পাঠানো হবে। মালিক অনলাইনে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জরিমানা পরিশোধ করতে পারবেন, আর বারবার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুরুতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ভুল-ত্রুটি সংশোধনের পর পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কে তা সম্প্রসারণ করা হবে।
মহাসড়কে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধেও এই প্রযুক্তি সহায়ক হবে জানিয়ে তিনি বলেন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশ, যে পক্ষ থেকেই চাঁদাবাজি হোক না কেন, তা সিসিটিভিতে রেকর্ড হবে। মূল মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও নসিমন-করিমন উঠতে দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
তবে স্থানীয় বাজার ও ফিডার সড়কে চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক মো: আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
‘হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত এই সার্ভিলেন্স ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ করেছে স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড, যা ২০২১ সালের ২৩ জুন শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হয় এবং একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমিয়ে এই প্রযুক্তি জবাবদিহিতা বাড়াবে, তবে মহাসড়কের পাশে হাট-বাজার, শিল্পকারখানা ও ফিডার সড়কের সংযোগসহ নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই এর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।



