হাওরের বোরো জমিতে নতুন আতঙ্ক মদের ভাঙা বোতলের কাচ

Printed Edition
জমিতে পাওয়া ভাঙা বোতলের টুকরো দেখাচ্ছেন এক কৃষক : নয়া দিগন্ত
জমিতে পাওয়া ভাঙা বোতলের টুকরো দেখাচ্ছেন এক কৃষক : নয়া দিগন্ত

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পানি শুকিয়ে বোরো চাষের জমি জেগে উঠলেও নতুন এক আতঙ্কে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। জমিতে ছড়িয়ে থাকা ভাঙা মদের বোতলের কাচে হাত-পা কেটে প্রতিদিনই আহত হচ্ছেন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের চাষাবাদ, বাড়ছে চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাওরে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কৃষক ও শ্রমিক কাচের টুকরোর আঘাতে আহত হয়েছেন। গত পাঁচ বছরে এই সংখ্যা তিন থেকে চার শতাধিক বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। আহত অনেক কৃষক বর্তমানে কাজে যেতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অন্য দিকে, কাচে আহত হওয়ার আশঙ্কায় জমিতে নামতে ভয় পাচ্ছেন বহু কৃষক ও শ্রমিক।

সচেতন মহলের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক ও লাকমা ছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে আসা কিছু পর্যটক মাদক সেবন শেষে মদের বোতল হাওরের পানিতে ফেলে দেন। অনেক ক্ষেত্রে বোতল ভেঙে ফেলা হয়, আবার অনেক বোতল অক্ষত অবস্থায় পানিতে পড়ে থাকে। পরে বোরো মৌসুমে জমি চাষের সময় ট্রাক্টরের চাপে সেগুলো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ধারালো কাচেই কৃষকরা আহত হচ্ছেন।

মাটিয়ান হাওরপাড়ের বড়দল গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়াস আহমেদ জানান, তার গ্রামের অন্তত ২০-২৫ জন দরিদ্র কৃষক ইতোমধ্যে ভাঙা কাচে গুরুতর আহত হয়েছেন। কৃষক কামাল উদ্দিন বলেন, ‘জমিতে পা দিলেই ভয় লাগে। চারা রোপণের সময় হাত কেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এভাবে চললে চাষাবাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

সম্প্রতি মাটিয়ান হাওরে ট্রাক্টর চালাতে গিয়ে কৃষক বশির মিয়ার পা কেটে যায়। তাকে আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন আর মাঠে কাজ করতে পারছি না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থে সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, পর্যটন মৌসুমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং বর্ষায় হাওরে হাউজবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা না দিলে কৃষকদের এ দুর্দশা আরো বাড়বে।