হাজার কোটি টাকার বেশি পাচারকারীদের পর এবার ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করেছেন এমন ব্যক্তিদের গোয়েন্দা জালে আনা হচ্ছে। দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণের নামে অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করা, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লোপাট করা, ব্যবসার অর্থ আন্ডার ইনভয়েস ও ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট থেকে এ বিষয়ে মাঠে কাজ শুরু করেছে। এ জন্য বিদেশী সংস্থাগুলো কাজে লাগানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল বেশ কয়েকটি বিদেশী ল ফার্মের সাথে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকার ওপর পাচার করেছে এমন তথ্য বের করা হয়েছে। ধাপে ধাপে নিচে নামা হচ্ছে। এস আলম, নজরুল ইসলাম মজুমদার, বেক্সিমকোর সালমান এফ রহমান, জেমকন গ্রুপ, শিকদার গ্রুপসহ ১০টি গ্রুপকে ইতোমধ্যে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছিল। সেই সাথে পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বোন রেহেনা, ছেলে জয়, মেয়ে পুতুলসহ শেখ পরিবারকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছিল। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের পাচারকৃত অর্থের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের প্রায় অর্ধশতাধিক দেশে তাদের পাচারের অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরই ভিত্তিতে বিদেশী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে থাকা তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, এ পর্যন্ত এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ও ৪২ হাজার কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
এক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পর এবার ২০০ কোটি টাকার বেশি পাচার করা হয়েছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সন্ধানে নেমেছে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ২০০ কোটি টাকার ওপর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেননি, আবার দেশে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও তেমন নেই এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেয়া হচ্ছে। তাদের ঋণের অর্থ কিভাবে ব্যয় করেছে, কোথায় ব্যয় করেছে এসব তথ্য নেয়া হবে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার এ বিষয়ে সহযোগিতা নেয়া হবে। এরই ভিত্তিতে পাচারকারীদের শনাক্ত করা হবে।
অপর দিকে, অনেকেই বিদেশে পণ্য রফতানি করেছেন। কিন্তু ঘোষিত দামের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অনেকেই বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করেছে। কিন্তু কম মূল্যের পণ্য বেশি দাম দেখানো হয়েছে। এভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে। এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতেই বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিদেশে সংস্থাগুলোর সাথেও বৈঠক করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পাচারের অর্থ চিহ্নিত করে তা দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতকাল বেশ কয়েকটি বিদেশী ল’ ফার্মের সাথে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিদেশী সংস্থাগুলো তাদের দেশের থাকা আইনগত দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে পাচারকৃত অর্থ শনাক্ত ও বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনগত সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



