শেখ দীন মাহমুদ পাইকগাছা (খুলনা)
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের বাদুড়িয়া গ্রাম। যেখানকার প্রায় শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন শোল মাছের চাষকে। উপজেলার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখন গ্রামটিকে একনামে ‘শোল মাছের গ্রাম’ হিসেবেই চেনেন। গ্রামের শত শত পুকুরে বাণিজ্যিক শোল চাষে বহু পরিবার ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক মুক্তি পেয়েছে। ফলে প্রতি বছরই এখানে শোল চাষে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বাদুড়িয়া গ্রামের অন্তত তিন শতাধিক ছোট-বড় পুকুরে এখন শোল মাছের নিবিড় চাষ হচ্ছে। মাত্র কয়েক বছরে শোল মাছের রাজধানী খ্যাতি পাওয়া এই গ্রামের শিক্ষিত বেকার থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই চাষে জড়িয়ে পড়েছেন। বাড়ির আঙিনার ছোট পুকুর থেকে শুরু করে পরিত্যক্ত জলাশয়; সবখানেই এখন শোল মাছের চাষ হচ্ছে। মাছের খাদ্য প্রস্তুত, পুকুর পরিচর্যা ও বিপণনকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন কর্মচাঞ্চল্য, যা গ্রামটিতে নতুন কর্মমুখী ও অর্থনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।
মাছ চাষের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিটি পুকুরের চারপাশ বাঁশের চটা ও বিশেষ নেট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই ব্যবস্থাপনার কারণে সাপ বা ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ পুকুরে প্রবেশ করতে পারে না, যা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও গ্রামের মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
মাছচাষিরা জানান, সাধারণত ৫-৬ শতকের পুকুরে দুই থেকে আড়াই হাজার পোনা ছাড়া হয়। খাদ্য হিসেবে প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে কাঁচা তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প মাছ কেটে দেয়া হয়। মাছের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্যের পরিমাণও বাড়ানো হয়। সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হলো, এই চাষে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন ভোরে গৃহিণীদের নিয়ম করে মাছের খাদ্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়।
পরিচিতি পাওয়া স্থানীয় চাষি মো: হাসান জানান, ছয় শতকের পুকুরে দুই হাজার ৬০০টি শোল মাছের পোনা ছেড়ে ৭-৮ মাসে প্রতিটি মাছের ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত করেছেন। বছরে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচের বিপরীতে তার মাছ বিক্রি হয় সাত থেকে আট লাখ টাকা। আরেক চাষি মো: উজ্জ্বল গাজী গত বছর ১৫ শতকের দু’টি পুকুর থেকে চার লাখ টাকা খরচে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাদুড়িয়ার এই শোল মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি শোল মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় চাষিরা ভালো মুনাফা পাচ্ছেন।
পাইকগাছা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক জানান, এটি স্থানীয় অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করছে। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।



