৩ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

খুলনায় জোড়া খুনের নেপথ্যে আধিপত্য ও মাদক

Printed Edition

খুলনা ব্যুরো

খুলনা নগরীর লবণচরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ ঘটনায় আলামিন হাসান সাইফিসহ তার দুই সহযোগীকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার র‌্যাব-৬ কার্যালায়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতার অপর দু’জন হলেন- রাফিকুল ইসলাম রাকিব ও সাগর আহম্মেদ। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান, একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার গোপালগঞ্জের মাঝিগাতী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে সাইফি ও রাকিবকে গ্রেফতারের পর তাদের দেয়া তথ্যে খুলনা থেকে সাগরকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, খুলনার টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকার মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে দু’টি সন্ত্রাসী বাহিনী। গ্রেফতার সাইফি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবুর’ নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনীর হয়ে কাজ করতেন। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী ‘রফিক’ সক্রিয় ছিলেন অন্য সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘পলাশ-রোহান’ বাহিনীতে। এ নিয়ে দু’টি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ আগস্ট লবণচরার আশিবিঘা এলাকায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে দু’টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তদন্তে উঠে আসে, প্রতিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রাসী রফিক সাইফির দলের সদস্য নাজমুলকে আটকে রেখে ভিডিও কলে সাইফিকে দেখিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন, পরে নাজমুলের মৃত্যু হয়। এর প্রতিশোধ নিতে সাইফি ও তার দল ১৫-১৬ জন সশস্ত্র সদস্য নিয়ে আশিবিঘা এলাকায় হামলা চালায়। সেখানে প্রতিপক্ষ ‘রোহান-পলাশ’ গ্রুপের সমর্থক মঞ্জুরুলকে সামনে পেয়ে তার বাবার সামনেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।