কুমিল্লায় হত্যার পর লাশ টুকরো করে ১১ প্যাকেটে ফেলা হয়

Printed Edition

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) নামে এক বাড়ির মালিককে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ টুকরো করে পলিথিনের প্যাকেটে ভরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো: মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া শনিবার দেবিদ্বার থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি লাইলী আক্তারকে বিক্ষুব্ধ জনতা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে বাড়ির পেছন থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। পরে রোববার আরো দু’টি প্যাকেট থেকে ফরিদার মাথা ও দুই পায়ের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিন দেবিদ্বার পৌরসভার ফতেহাবাদ গ্রামের মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। তার স্বামী চট্টগ্রামের একটি জাহাজে চাকরি করেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে ছোট আলমপুরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ‘ভূঁইয়া হাউজে’ স্বামী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে ছোট মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকায় ফরিদা বাসায় একা ছিলেন।

মামলার আসামিরা হলেন লাইলী আক্তার, তার স্বামী আবুল কালাম, রবিউল ইসলাম ও সোহেল রানা। পুলিশ জানায়, লাইলী প্রায় ১২ দিন আগে ফরিদার বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। এরপর বাড়ির মালিকের সাথে তার সখ্যতা তৈরি হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে লাইলী তার স্বামীসহ অন্যদের ডেকে আনেন। এরপর ফরিদাকে হত্যা করে লাশ খণ্ডিত করা হয়। পরে খণ্ডিত অংশগুলো পলিথিনের ব্যাগে ভরে বাড়ির পেছনে রাখা হয়।

শনিবার সকালে ফরিদার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ না পেয়ে তার মেয়ে ও স্বজনরা খোঁজ শুরু করেন। পরে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখতে পান। এরপর বাড়ির আশপাশে খোঁজ করে পলিথিনে মোড়ানো লাশের অংশ পাওয়া যায়।

এ সময় স্থানীয় লোকজন লাইলীকে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানেও বিক্ষুব্ধ লোকজন তার ওপর হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো: মনিরুজ্জামান বলেন, লাশের আরো অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লাইলী আক্তার ২০২১ সালে পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফাহিমা হত্যার মামলারও আসামি ছিলেন। ওই মামলায় ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যার পর একটি খালে লাশ পুঁতে রাখার অভিযোগ ছিল। প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর কয়েক মাস আগে লাইলীসহ ওই মামলার আসামিরা জামিনে মুক্তি পান। মামলাটির বিচার এখনো শেষ হয়নি।

দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো: শাহীন বলেন, প্রায় ১২ দিন আগে ফরিদার বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। প্রাথমিকভাবে বাড়ির মালিকের স্বর্ণালঙ্কারের লোভে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিহতের মেয়ে মরিয়ম আক্তার অভিযোগ করেন, হত্যার পর বাড়ির কাজের জন্য রাখা প্রায় সাত লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।