পবিত্র রমজানকে উপলক্ষ করে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবু, শসা, বেগুন, কাঁচামরিচসহ রোজা সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি আলু ও পেঁয়াজের মতো প্রধান ভোগ্যপণ্যের দামও নেমে এসেছে, যা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানের আগে অনেকেই একসাথে দুই থেকে তিন সপ্তাহের বাজার করে রাখেন। ফলে ওই সময় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সেই অতিরিক্ত চাহিদা নেই। তাছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে। এতে বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় দামও নি¤œমুখী হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর মিরপুর-৬, দুয়ারীপাড়া, রূপনগর ও কাওরানবাজার সরেজমিনে দেখা যায়, আলু ও পেঁয়াজের দাম রোজার শুরুর সময়ের তুলনায় অনেকটাই কম। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। একইভাবে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, যা রোজার শুরুতে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম প্রায় ২০ টাকা কমেছে।
রোজার আগে যে লেবু হালিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বড় আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ১৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। একইভাবে শসা ও বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ দিকে কাঁচামরিচের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রমজানের শুরুতে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় ওঠা মরিচ বর্তমানে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার ভ্যানে সাধারণ মানের মরিচ পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়। বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম নি¤œমুখী রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায় ফুলকপি, মুলা, শিম, গাজর, পেঁপে ও বাঁধাকপির মতো মৌসুমি সবজির দামও কমেছে। বর্তমানে শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একই দামে মুলা, গাজর, পেঁপে, ফুলকপি ও বাঁধাকপি পাওয়া যাচ্ছে। বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি অন্তত ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
দুয়ারীপাড়া বাজারের এক সবজি বিক্রেতা জানান, রোজার শুরুতে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছিল। এখন ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রি ধরে রাখতে কম দামে পণ্য ছাড়তে হচ্ছে। আরো এক সপ্তাহ পর ঢাকা থেকে অনেকে গ্রামে চলে গেলে বাজারে চাহিদা আরো কমবে, তখন দাম আরো কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মেস ও হোস্টেলভিত্তিক ক্রেতা কমতে শুরু করেছে। এ দিকে মুদি পণ্যের বাজারেও আংশিক স্বস্তি দেখা গেছে। ছোলার দাম কমে বর্তমানে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার শুরুতে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। খোলা পাম তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমেছে। তবে সয়াবিন তেল, চিনি ও অন্যান্য কিছু নিত্যপণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা লিটারে।
গোশত ও ডিমের বাজারেও কমতি লক্ষ করা গেছে। ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে কেজিপ্রতি ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোজার বাজারে যে অতিরিক্ত উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। ক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিন আগের তুলনায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। এই স্থিতিশীলতা যেন ধরে রাখা হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বিঘœ না ঘটে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাহিদা ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে রমজানের বাকি সময়জুড়েও দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা কম।



