সংসদ প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) সরকারি ফ্ল্যাটে মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দা দেয়ার দাবি ঘিরে এক নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের এই দাবিকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে তীব্র বাদানুবাদ হয়। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ওই সংসদ সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন উপহার দেয়ার ঘোষণা দিলে এর কড়া প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা: মো: শফিকুর রহমান। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘আর বাড়াবাড়ির তো কোনো দরকার নাই।’
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ আগের দিনের বাজেট আলোচনায় জামায়াত এমপি মিজানুর রহমানের উত্থাপিত দাবির সমালোচনা করেন। পার্থ বলেন, একজন সংসদ সদস্য জনগণের সমস্যার কথা না বলে সংসদে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দার মতো বিষয় তোলা সংসদের মর্যাদাকে ক্ষুণœ করে। তিনি একটি গণমাধ্যমের খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যখন এই খবর হয় যে - জামায়াত এমপির ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন অ্যান্ড কার্টিনস- এটা আমাকে এবং পুরো পার্লামেন্টকে লজ্জায় ফেলে।’ ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে গাড়ি ও প্লট না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে পরে এই দাবি তোলা পরস্পরবিরোধী। বক্তব্যের একপর্যায়ে পার্থ রসিকতার সুরে বলেন, ওই সংসদ সদস্যের সত্যিই প্রয়োজন হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে একটি মাইক্রোওভেন দিতে প্রস্তুত। একই সাথে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ওয়াশিং মেশিন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পর্দার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
পার্থের এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: মো: শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকার শুরুতেই স্পষ্ট করেছেন যে বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। এরপরও একজন সদস্য সব এমপির জন্য একটি সুবিধার কথা বলায় তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা সমীচীন হয়নি। পার্থের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘উনি তো বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। কিন্তু নিজের থেকে অফারও দিয়ে দিলেন যে আমি সব দিয়ে দেব। উনার কাছে চাইছে নাকি কেউ? আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত, যাতে কেউ কারো সম্মানে আঘাত না করি।’
বিতর্কের মধ্যে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সংসদে রুলিং দিয়ে বলেন, বাজেট আলোচনায় একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলতেই পারেন। যদিও বিষয়টি সংসদে না বলাই ভালো হতো, তবে এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করেন, সংশ্লিষ্ট এমপি নিজের জন্য নয়, সংসদের সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী সব সদস্যের জন্যই হাউজ কমিটির মাধ্যমে এই সুবিধাগুলো চেয়েছিলেন।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবেও স্পিকার বলেন, একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু দেয়ার প্রস্তাবও তার প্রতি অসম্মানজনক বলে বিবেচিত হতে পারে। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি মনে করি না বললেই ভালো হতো, এতে জনমনে অন্য ধরনের ধারণা হতে পারে। তবে এটি তো তাদের প্রাপ্যও হতে পারে। এই সামান্য বিষয় নিয়ে বিতর্ক করলে বাইরে খারাপ বার্তা যাবে।’ তিনি সবাইকে ভবিষ্যতে বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াত এমপি মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন এবং দরজা-জানালায় পর্দা সরবরাহের দাবি জানিয়েছিলেন, যার জের ধরে পরদিন সংসদে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।



