হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর তালিকায় আরো ৯ শিশু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯ শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনের হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বাকি ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫৬ জন।

১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ২৪ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ হাজার ৫৬৭ জন। এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৮১ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩২ হাজার ৮৭৭ জন।

সিলেটে আরো ২ শিশুর মৃত্যু

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছরে এই বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। এর মধ্যে তিনজনের ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গতকাল সিলেট বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য কার্যালয়ের দৈনিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০ জন ভর্তি হয়েছেন সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এ ছাড়া ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চারজন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে একজন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৮৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি আছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন ৭ মাস বয়সী ইকরা জান্নাত। সে সিলেট নগরীর কাজলশাহ এলাকার বাসিন্দা; অন্যজন ১০ মাস বয়সী মারওয়ান আহমদ। সে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

ওসমানীতে আইসোলেশন সেবা বেড়েছে

সিলেটে হাম পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শিশুদের চিকিৎসাসেবা বাড়াতে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। একইসাথে গুরুতর রোগীদের জন্য চালু হয়েছে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চালু করা হয়েছে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ)।