ভাষান্তর : শেখ আবদুল্লাহ নূর
(গত দিনের পর)
সব একে একে ভেঙে ফেলতে লাগলেন লাউতান সিংহ।
মেরিন্তারা তখন সবেমাত্র সাগর সৈকত থেকে প্রাসাদে ফিরছে। সে দৌড়ে এলো তার নিজের কক্ষে। চিৎকার করে সে বলল, ‘বাবা, না! ওগুলো আমার সম্পদ! ভেঙে ফেল না।’
কিন্তু লাউতান সিংহ মেয়ের এমন আকুতি শুনলেন না। তার ত্রিশূলের ডগা থেকে বিচ্ছুরিত নীল ঝলকে ক্রাক ক্রাক করে ভেঙে ফেললেন মেরিন্তারার জমিয়ে রাখা সব সম্পদ। আতশি কাচের চাকতিটিও ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
এমন প্রিয় জিনিসগুলো হারিয়ে মেরিন্তারা কাঁদতে থাকে। অঝোর ধারায় ঝরতে থাকে তার নীল চোখের জল। সেই জল অবশ্য কোনো সাধারণ অশ্রু নয়। সে অশ্রু সাগরকন্যার হৃদয়-ভাঙা বেদনার।
এক সময় সবকিছু শান্ত হয়ে যায়। কাঁকড়া-কবি এসে মেরিন্তারার পাশে এসে দাঁড়ায়। সে তখন হাত-পা নেড়ে বলে, ‘বলছিলাম না মেরিন্তারা? আমি তোমাকে আগেই তো সতর্ক করে দিয়েছিলাম কিন্তু তুমি শুনলে না; সাগরজলে মাথা তুললেই। সাগরপৃষ্ঠে মাথা না তুললে রাজকুমারের ডুবে যাওয়ার ঘটনা দেখতে পেতে না। (চলবে)



