কাজী আফতাব হোসেন নগরকান্দা (ফরিদপুর)
ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথায় চলছে পেঁয়াজের চারা রোপণের ব্যস্ততম সময়। শীতের কনকনে হওয়া আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোর থেকেই কৃষকরা মাঠে নেমে পড়ছেন। কোথাও হাল চাষ করে জমি প্রস্তুতকরণ, কোথাও চারা উত্তোলন, কোথাও সারিবদ্ধভাবে রোপণ, উপজেলা জুড়েই যেন পেঁয়াজ আবাদের উৎসব চলছে।
বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি জমিতে ১৫-২০ জন শ্রমিক একসাথে রোপণ কাজে যুক্ত। এক দল চারা তুলে দিচ্ছে, অন্য দল তা রোপণ করছে। চারা বসানো শেষ হতেই সেচ, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক ছিটানোর কাজ শুরু হয়। ব্যস্ততার কারণে অনেক কৃষক মাঠেই দুপুরের খাবার সেরে নিচ্ছেন। পুরো এলাকা এখন পেঁয়াজ আবাদে মুখর।
নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে নগরকান্দার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সালথার আটটি ইউনিয়নে মোট ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের উৎসাহ দিতে দুই হাজার ৬৮০ জন কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদান করেছে সরকার।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, দুই কেজি বীজ থেকে যথাযথভাবে চারা উৎপাদন হলে প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ সম্ভব। যারা আগে থেকেই চারা প্রস্তুত করেছিলেন, তারা এখন রোপণে ব্যস্ত।
তবে আবাদ আরো বৃদ্ধি পেলে শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিতে পারে এবং তাতে উৎপাদন খরচ বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
পুড়াপাড়া ইউনিয়নের দফা গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, এবার আট বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করব। রোপণ শুরু করেছি। পুরো এলাকায় একসাথে কাজ শুরু হলে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হবে, তখন খরচও বাড়বে।
নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, কৃষকদের সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা কাজ করছেন। বাজারে ভালো দাম থাকায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।



