ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া বোনাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কাবাডি ফেডারেশনের বিরুদ্ধে। খেলোয়াড়, রেফারি ও জাজদের নানা সমস্যা সমাধানের নামে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বোনাস থেকে এই তহবিল গঠন করা হচ্ছে। বিশ্বকাপ কাবাডি ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা ১৫ জন নারী খেলোয়াড়ের বোনাসের উপর ১০ পার্সেন্ট হারে প্রায় তিন লাখ টাকা তুলে নেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কাবাডি ফেডারেশনের কর্তারা।
গত বছর মার্চে ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ২০ বছরের খরা কাটিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন বাংলাদেশের কাবাডির মেয়েরা। যদিও ২০০৫ সালে প্রথম আসরের ব্রোঞ্জ পরের বছরই হাতছাড়া হয়। পদক পুনরুদ্ধারে প্রশসংশিত হন রুপালি আক্তাররা। গত বছরের মেয়েদের বিশ্বকাপ কাবাডির দ্বিতীয় আসর করতে ব্যর্থ হয় ভারত। ফলে প্রায় ১০ কোটি টাকার বাজেটে ১৫-২৫ নভেম্বর মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোরে হয় দ্বিতীয় নারী বিশ্বকাপ কাবাডি। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেয় ভারত, চাইনিজ তাইপে, জামার্নি, ইরান, কেনিয়া, নেপাল, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড, উগান্ডা এবং জাঞ্জিবার। এই টুর্নামেন্টেও ব্রোঞ্জপদক জেতে বাংলাদেশের মুখ আলো করেছেন রুপালি আক্তার, শ্রাবণী মল্লিকরা।
এই দুই টুর্নামেন্টে দু’টি ব্রোঞ্জ জেতা দলের সদস্যরা হলেন- শ্রাবণী মলিক, বৃষ্টি বিশ্বাস, রুপালি আক্তার (সিনিয়র), স্মৃতি আক্তার, রেখা আক্তার, মেবি চাকমা, রুপালি আক্তার (জুনিয়র), আঞ্জুয়ারা রাত্রি, সুচরিতা চাকমা, খাদিজা খাতুন, লোবা আক্তার, ইয়াসমিন খানম, ইসরাত জাহান সাদিকা, তাহরিম ও লাকী আক্তার। গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৫-২৬ সালে আন্তর্জাতিক আসরে পদকজয়ীদের এক লাখ টাকা করে অর্থপুরস্কার বোনাস দেন। দুই টুর্নামেন্টের হিসাবে কাবাডির এই ১৫ জন মেয়ের প্রত্যেকে দুই লাখ টাকা করে পেয়েছেন। কিন্তু এই বোনাস থেকে ১০ ভাগ হারে অর্থ ফেডারেশনে জমা দিতে বলেছেন কাবাডির কর্তারা। সূত্রমতে, খেলোয়াড়, রেফারি ও জাজদের ইনজুরির জন্য আপাদকালীন একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে। যেখানে ১৫ জন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা বোনাসের উপর ১০ ভাগ হারে তিন লাখ টাকা জমা করার লক্ষ্য। এ নিয়ে অসন্তুষ্ট খেলোয়াড়রা। তাই কেউ অর্থ জমা দিয়েছেন, কেউ দেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খেলোয়াড় বলেন, ‘আমাদের অনেকের পরিবার অর্থকষ্টে রয়েছে। এই বোনাসের অর্থ দিয়ে নানা সমস্যা মেটাই। কিন্তু ফেডারেশনকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এই ফান্ড কি ফেডারেশনের অর্থায়নে করা যায় না? আমাদের টাকা থেকে কেন?’
ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান চুন্নু বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘এটা অনেক আগে থেকে চলে আসছে। তাই আমরাও নিচ্ছি।’ ফান্ড গঠনের জন্য খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেয়ার বিষয়টি শুনে হতবাক বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল হক। ‘আমিতো জানি দুই থেকে তিন হাজার টাকা হবে। কিন্তু ১০ ভাগ করে তা জানি না।’ অতীতে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ফান্ডের নামে এমন কোনো অর্থ আদায় করা হয়নি বলে জানান সাবেক কোষাধ্যক্ষ এস এম এ মান্নান। ‘আমরা বিদেশে রেফারিং করতে যাওয়া রেফারিদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ নিয়ে ফান্ড করতাম। কিন্তু কখনোই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার রেকর্ড ছিল না।’



