পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারদের চাকরি নিয়মিত ও ১৬ কর্মীকে পুনর্বহালের দাবি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চুক্তিভিত্তিক মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারদের (এমআরসিএম) দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসন, চাকরি নিয়মিতকরণ ও আন্দোলনের কারণে চাকরিচ্যুত ১৬ কর্মীকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত মে মাসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৬ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ উপদেষ্টার সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে উচ্চপদস্থ দু’টি কমিটি গঠন করা হয়। এর একটি কমিটিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সব চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিতকরণ এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের বিষয় খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট এমআরসিএমদের অভিযোগ, কমিটি তাদের সাথে কোনো আলোচনা না করেই শুধু বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (ব্রেব) সাথে আলোচনা করে একপাক্ষিক প্রতিবেদন দেয়। এর ভিত্তিতে গত ৭ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্তে ‘লাইন শ্রমিক (কাজ নাই মজুরি নাই)’ পদের চাকরি নিয়মিতকরণের সুপারিশ করা হলেও মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারদের চাকরি নিয়মিতকরণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এতে কমিটির প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন ঘটেনি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত বিলিং সহকারী, লাইন ক্রু ও অন্যান্য পদ নিয়মিত করা হলেও শুধু এমআরসিএমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এ দিকে আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিযোগে বিভিন্ন সমিতি থেকে ১৬ জন চুক্তিভিত্তিক এমআরসিএমকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। চাকরিচ্যুত এসব কর্মীর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করা হয়। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সঙ্কটে পড়েছেন, কেউ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষম।

এমআরসিএম নেতারা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সূচনালগ্ন থেকেই মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার পদ দু’টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ম্যাসেঞ্জার পদটি নিয়মিত ছিল, পরে তা চুক্তিভিত্তিক করা হয় এবং বর্তমানে দুই পদ একত্রিত করে ‘মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার’ নামকরণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটির ওপর কাজ ছাড়া সমিতির প্রায় সব কার্যক্রমেই তারা অংশগ্রহণ করে থাকেন।