নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিনের মন্দার পর দেশের আবাসন খাতে ফের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, আবাসন ব্যবসার সাথে গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিনিয়োগ বাড়ে, ব্যবসায়িক আস্থা ফিরে আসে এবং মুক্ত পরিবেশে উদ্যোক্তারা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসানের পর সামনে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে- এই প্রত্যাশা থেকেই আবাসন খাতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত রিহ্যাব ফেয়ারের শেষ দিনে ফেয়ারে অংশ নেয়া একাধিক আবাসন ব্যবসায়ী এই আশাবাদের কথা জানান।
তারা বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আবাসন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারো সেই সুদিন ফিরে আসতে পারে বলে তারা আশাবাদী।
ফেয়ারের শেষ দিন হওয়ায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
বিকেলের পর থেকে সমাগম আরো বাড়তে থাকে এবং সন্ধ্যার দিকে উপচে পড়া ভিড়ের কারণে অনেক সময় স্টলগুলোতে গায়ের সাথে গা লাগিয়ে ঘুরতে হয়েছে দর্শনার্থীদের।
ফেয়ারে বুকিং ও ক্রেতাদের আগ্রহ প্রসঙ্গে ঢাকা মডার্ন সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নেয়ামুল করিম নয়া দিগন্তকে বলেন, ফেয়ারে অংশগ্রহণের প্রধান উদ্দেশ্য শুধু বুকিং পাওয়া নয়, বরং আবাসনের স্বপ্ন দেখেন- এমন আগ্রহী মানুষের কাছে প্রকল্পগুলো তুলে ধরা।
তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছি এবং কিছু বুকিংও পেয়েছি, যাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।
সামনে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে আবাসন খাতে আরো গতি আসবে।’
রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ লিয়াকত আলী ভূইয়া বলেন, ক্রেতা ও আবাসন ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর রিহ্যাব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়।
এবারো বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ও ক্রেতার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এই উদ্যোগ সফল হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সারা বছরজুড়েই আবাসন ব্যবসায়ীদের সাথে ক্রেতাদের লেনদেন অব্যাহত থাকবে।
এবারের রিহ্যাব ফেয়ারে শতাধিক আবাসন প্রতিষ্ঠান, নির্মাণসামগ্রী প্রস্তুতকারক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ফ্ল্যাট, প্লট ও বাণিজ্যিক স্পেসের পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্পও প্রদর্শন করা হয়।
ফেয়ার উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ মূল্যছাড়, সহজ কিস্তি সুবিধা এবং ব্যাংক ঋণের বিশেষ অফার ঘোষণা করে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এবারো মধ্য আয়ের ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি ছিল।
অনেক প্রতিষ্ঠান মেলাতেই প্রাথমিক বুকিং ও চুক্তি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। রিহ্যাব নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এবারের মেলায় ক্রেতাদের সাড়া আশাব্যঞ্জক।
সরকারের সহায়ক নীতি, সুদের হার হ্রাস এবং আবাসন খাতে কর-সুবিধা বাড়ানো হলে এই খাত আরো গতিশীল হয়ে উঠবে বলে তারা মনে করেন।



