বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৯০ ডলার ছাড়াল

Printed Edition

দ্য গার্ডিয়ান

ইরানে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। করোনা মহামারীর পর একসপ্তাহে তেলের দামে এত বড় উল্লম্ফন আর দেখা যায়নি। এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

কুয়েতে পর্যাপ্ত স্টোরেজ না থাকায় কিছু খনি থেকে উৎপাদন কমানো হয়েছে। এর পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম শুক্রবার একপর্যায়ে ৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। যুদ্ধ শুরুর আগে দাম ছিল প্রায় ৭২ দশমিক ৫০ ডলার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিলের পর এক সপ্তাহে এবারই সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গেল।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাণিজ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের মতে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল মজুদ রাখার ক্ষমতা আগামী ২০ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে। এমন হলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা আবার চালু করতে কয়েক সপ্তাহ সময় ও বিপুল ব্যয় প্রয়োজন হবে। এতে বাজারে অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে।

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, ইরানের ড্রোন হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যুদ্ধ এখনই থেমে গেলেও কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। বিশ্বের মোট এলএনজি রফতানির প্রায় ২০ শতাংশই কাতার সরবরাহ করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সব রফতানিকারক দেশ উৎপাদন বন্ধ করতে পারে। এতে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাজ্য তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাসের মাত্র ২ শতাংশ কাতার থেকে আমদানি করে। তবে সরবরাহ বিলম্বিত হলে ইউরোপকে এশীয় ক্রেতাদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বেশি দাম দিয়ে গ্যাস কিনতে হতে পারে।