শৈলকুপা আসন জিততে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

Printed Edition

মফিজুল ইসলাম শৈলকুপা (ঝিনাইদহ)

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের প্রভাবশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) সংসদীয় আসনে এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘ দিন হারানো এই আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি যেমন মরিয়া, তেমনি আসনটি দখলে নিতে জোর প্রচারণায় নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফলে পুরো এলাকায় নির্বাচনী আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

জনসভা, কর্মিসভা, হাটবাজার ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। এ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- বিএনপি মনোনীত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো: আসাদুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর শৈলকুপা উপজেলা আমির অধ্যাপক এ এস এম মতিউর রহমান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট লীগের শহিদুল এনাম পল্লব, এবি পার্টির অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান এবং জাতীয় পার্টির মনিকা আলম।

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র প্রভাবের কারণে এ অঞ্চলে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এখন আত্মগোপনে রয়েছেন। এতে বিএনপিসহ নতুন প্রার্থীদের জন্য মাঠ উন্মুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শৈলকুপা আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ২৫ হাজার ৯৭৭ জন। প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ, ভোট প্রার্থনা ও সমর্থক সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও গঠন করেছেন।

জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক এ এস এম মতিউর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। এবার ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ল্েয জামায়াতকে সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ভোটারদের সমর্থন কামনা করেন।

অন্য দিকে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো: আসাদুজ্জামান বলেন, এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির। অতীতে নির্বাচন করতে না পারায় আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবার জনগণের রায়ে হারানো আসন ফিরে পাবো বলে আশা করছি। তিনি নির্বাচিত হলে শৈলকুপাকে মাদকমুক্ত করা এবং শিা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শৈলকুপা আসনে এবারের নির্বাচন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।