১ জানুয়ারি সব বই না পেলেও পাবে শতভাগ শিক্ষার্থী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • বছরের প্রথম দিনে হচ্ছে না উৎসব

  • অনলাইনে মিলছে পিডিএফ কপি

২০২৬ সালের প্রথম দিনে একসাথে সব বই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। তবে আশার কথা হচ্ছে শতভাগ শিক্ষার্থীই এদিন বই পাবে। দু’টি শ্রেণীর কিছু বই ছাপার বাকি থাকায় এই সঙ্কট হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ ছাড়া মুদ্রিত বই শিক্ষার্থীরা হাতে না পেলেও অনলাইনে বইয়ের পিডিএফ কপি তারা পড়তে পারবে। গতকাল রোববার এনসিটিবির মোট ৬৪৭টি বইয়ের অনলাইন কপি আপলোড দেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেছেন, নতুন বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই চলে যাবে। তবে পুরোপুরি বই পাবে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে। এনসিটিবির অডিটোরিয়ামে পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণের উদ্বোধন উপলক্ষে এসব আশার কথা জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভিন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে তোলা সংশ্লিষ্ট সবার কঠোর পরিশ্রমে কাজটা প্রায় শেষ পর্যায়ে এসেছে। জানুয়ারির ১ তারিখের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বই চলে যাবে। বাকিটা জানুয়ারির মধ্যে চলে যাবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব রফিকুল ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের। গণশিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো: মাসুদ রানা।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকের (প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী) বিভিন্ন শ্রেণীর জন্য মোট বইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৩ কপি। ইতোমধ্যে সব বই জেলা-উপজেলায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার নতুন বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিকের শতভাগ শিক্ষার্থী সব বই একসাথে হাতে পাবে। তবে ব্যত্যয় ঘটেছে মাধ্যমিকের বই মুদ্রণে। কয়েক দফায় দরপত্র দিয়ে জটিলতা এবং বই মুদ্রণে কাগজের মান নিয়েও আপত্তি থাকায় পহেলা জানুয়ারির আগে বই মুদ্রণের আশা অনুযায়ী কোনো সুখবর জানাতে পারছে না এনসিটিবি। প্রেস মালিকরাও তাদের নানা অভিযোগ আর পাওনা বিল নিয়ে প্রতিনিয়তই ধর্ণা দিচ্ছেন। অনেক প্রেস মালিক বকেয়া বিল না পাওয়ায় মাধ্যমিকের বই মুদ্রণে ইচ্ছাকৃতভাবেই বিলম্ব করছেন বলেও জানা গেছে। যদিও এবারো বছরের প্রথম দিনে অন্যান্য বছরের মতো বই উৎসব হচ্ছে না। সাধারণ নিয়মেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে। কোনো অনুষ্ঠান বা জাঁকজমক কোনো আয়োজন থাকছে না।

এনসিটিবির সচিব অধ্যাপক মো: সাহতাব উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, এবার বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ বই তুলে দিতে না পারলেও আমরা চেষ্টা করছি, শতভাগ শিক্ষার্থী যাতে নতুন বই হাতে পায়। এ ক্ষেত্রে মূল বা প্রধান প্রধান বইগুলো (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান) তাদের হাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে। আর প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীই শতভাগ বই হাতে পাবে। আমরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করছি, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সব শিক্ষার্থীর হাতে শতভাগ বই পৌঁছে দেয়ার।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের পাঠ্যবই নিয়ে শুরু থেকেই একটি অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। তবে এখন পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। ষষ্ঠ এবং নবম শ্রেণীর শতভাগ বই মুদ্রণ শেষ হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বই উপজেলা পর্যায়ে চলে যাবে। আর সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণীর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বই ছাপার কাজ বাকি আছে। এই বইগুলো কিছুটা দেরিতে যাবে। তবে এই দুই শ্রেণীর কিছু বই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুদ্রণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতে এই দুই শ্রেণীর শিক্ষার্থীরাও তিন চারটি বই হলেও যেন হাতে পায়। অপর দিকে দেশের ৬৪ জেলাকে ভাগ করে উপজেলাভিত্তিক ৫৮০টি কেন্দ্র নির্ধারণ করে পাঠ্যবই পৌঁছানো শুরু হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকা কিংবা পরিবহন সঙ্কটের কারণে এক দু’টি কেন্দ্রে বই পাঠাতে সমস্যা না হলে এনসিটিবি আশা করছে এবার শিক্ষার্থীরা যথাসময়েই পাঠ্যবই হাতে পাবে।

গতকাল পাঠ্যবইয়ের অনলাইনে উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই পাঠ্যবইয়ের কাজটা কঠিন ছিল। নিম্নমান ও ভুলসম্পন্ন বই শিক্ষার্থীদের হাতে না দিতে আমরা কাজ করেছি। অনেক রিপোর্ট পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে এর মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আবার ভালো রিপোর্টও আছে। এতে আমরা প্রেসে গিয়ে পদক্ষেপ নিতে পেরেছি। তা ছাড়া পত্রিকায় রিপোর্ট হওয়ার পর বইগুলোর ছাপার কাজে সমন্বয় করতে হয়েছে। না হলে ডিসেম্বরের ৭-৮ তারিখের মধ্যে বইয়ের কাজ শেষ করতে পারতাম। তখন বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থী শতভাগ বই হাতে পেত। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি অন্তত জানুয়ারি মাসের মধ্যেই যাতে সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া যায়।