আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে মালেতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতা

Printed Edition
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালেতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ডা: মোহাম্মদ মুইজ্জুর সাথে সাক্ষাৎ করেন : পিআইডি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালেতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ডা: মোহাম্মদ মুইজ্জুর সাথে সাক্ষাৎ করেন : পিআইডি

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে মালে সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরকালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহামেদ মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় উভয়পক্ষ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, শনিবার বিকেলে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে পৌঁছান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতেই তার এ সফর। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম।

মালেতে পৌঁছানোর পরপরই প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহামেদ মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড. খলিলুর রহমান। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর কাছে পৌঁছে দেন এবং ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে তার প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের আলোকে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

দুই নেতা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উভয় দেশের জন্য কল্যাণকর বাস্তববাদী পন্থায় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তারা সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করেন এবং সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মালদ্বীপে কর্মরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক ও পেশাজীবীর অবদান নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু মালদ্বীপের অর্থনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দেন।

সাক্ষাৎকালে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী আলী ইহুসান এবং মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে উচ্চ চা-চক্রের আয়োজন করেন প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু। এতে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহামেদ লতিফ, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যায় ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদমের আয়োজিত ডিপ্লোম্যাটিক আউটরিচ ইভেন্টে অংশ নেন। সেখানে তিনি মালদ্বীপের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, বিদেশি রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।