সালথায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির অভিযোগ

Printed Edition

নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৪৪ নম্বর রাংগারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে থাকা ৭ থেকে ৮টি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্নু মেম্বারের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে বিদ্যালয় চত্বরে প্রায় ১২ বছর আগে লাগানো মেহগনি গাছগুলো কেটে নেয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী সালথা থানার ওসিকে মুঠোফোনে অবহিত করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুর শরিফ জানান, দুপুরের দিকে তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীণা আক্তারকে বিষয়টি অবগত করেন। তখন তিনি জানান, নান্নু মেম্বার দাবি করেছেন, গাছগুলো তার নিজস্ব জমির এবং তিনি সেগুলো বিক্রি করেছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীণা আক্তার বলেন, নান্নু মেম্বার ফোনে তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘আমার জায়গার গাছ আমি বিক্রি করেছি, আপনার এত মাথাব্যথা কেন?’ পরে তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে অবহিত করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাশেম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের জমির ভেতরে কোনো গাছ থাকলে তা কাটার অনুমতি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং গাছ বহন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, কাটা মেহগনি গাছগুলোর বাজারমূল্য অন্তত ৫০ হাজার টাকা। তবে ইউপি সদস্য নান্নু মেম্বার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, গাছগুলো বিদ্যালয়ের নয়, তার নিজস্ব জমির।