সিংড়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৮, ঘরবাড়ি ভাঙচুর

Printed Edition

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা

নাটোরের সিংড়ায় পূর্ববিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ডাহিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে একটি প্রাইভেট কার ও বেশ কিছু বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়।

গত রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের মাধা বাঁশবাড়িয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষ কয়েক দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতদের মধ্যে যুবদল নেতা ওমর ফারুক (৪৫), আক্তার হোসেন (৩৮), হাবিবুর (৫০), এমদাদুল হক (৩৫), রবিউল করিম (৪৫) ও রফিকুল ইসলাম (৬০) এক পক্ষের। অপর পক্ষের আহতরা হলেন রাসেল প্রামাণিক (২২) ও মাহবুব হোসেন (৩০)। তাদের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর সদর, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাধা বাঁশবাড়িয়া গ্রামে দু’টি পুরনো হত্যা মামলা ও আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় বিএনপি কর্মী সুজাউদ্দৌলা সূর্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হোসেন লাবুর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। রোববার সকালে স্থানীয় কবরস্থানে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

বিএনপি কর্মী সুজাউদ্দৌলা সূর্য অভিযোগ করেন, হত্যামামলা তুলে নিতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের সামনেই তাদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে এবং যুবদল নেতাকে মারধরসহ বাড়িঘর ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে। তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সোলায়মান হোসেন লাবু দাবি করেন, তিনি বর্তমানে ধর্মীয় কাজে (চিল্লায়) ঢাকার বাইরে আছেন এবং এই ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সিংড়া থানার ওসি আ স ম আব্দুন নুর বলেন, পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই সংঘর্ষ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে থানায় আলাদা দু’টি মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।