সড়ক দুর্ঘটনায় চার জেলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন স্কুলছাত্র, একজন ব্যবসায়ী ও একজনজন ট্রাক চালক রয়েছেন।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সাথে অপর একটি চলন্ত ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার গভীর রাতে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার জতুরপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে ট্রাক চালক আব্দুর রহিম মিয়া (২৬) এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের বুনোতলা রতনপুর গ্রামের গেন্দা শেখের ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া (৫৫)। এই ঘটনায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোপী বল্লমপুর গ্রামের আয়েন উদ্দিনের ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম (৫৪) গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেল থেকে কালিতলা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ডিভাইডারের উপর মহাসড়কের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত একটি বালু ও পাথর বোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ১৮-১৩৬০) বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাতে বগুড়াগামী অপর একটি বালু বোঝাই দ্রুতগতির ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২৪-৬৭৬৩) পিছন দিক থেকে ওই ট্রাকটিকে ধাক্কা দিলে চলন্ত ট্রাকের কেবিনে থাকা একজন যাত্রী ও ট্রাকের চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের মাধবীতলা এলাকায় বালু বোঝাই একটি ট্রাকের সাথে ইঞ্জিনচালিত আলম সাধুর মুখোমুখি সংঘর্ষে মোহাম্মদ ফরাজী (৪০) নামে এক মাছ ব্যবসায়ী নিহত এবং আহত হন আলম সাধুর চালক জহুরুল ইসলাম।
নিহত মোহাম্মদ ফরাজী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাগান মাঠ গ্রামের বাসিন্দা ও সামসুল হক ফরাজীর ছেলে। আহত জহুরুল ইসলামকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে যান।
প্রত্যদর্শীরা জানান, সকালে মাছ বোঝাই আলম সাধুটি চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে আলমডাঙ্গার দিকে যাচ্ছিল। মাধবীতলা এলাকার একটি বাঁকে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির বালুবোঝাই ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে আলম সাধুটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে উল্টে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মাছ ব্যবসায়ী ফরাজী মারা যান।
অন্য দিকে, একই দিন বেলা ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চরযাদবপুর এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নাজমুল হক (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা ও আইনাল হকের ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মনসুর আলী জানান, মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে একটি ব্রিজের কাছে হঠাৎ একটি বিড়ালকে বাঁচাতে গিয়ে নাজমুল হক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়া অফিস ও কাহালু সংবাদদাতা জানান, বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কের কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের বারমাইল নাগর নদীর ব্রিজের নিকট মঙ্গলবার বিকেলে ট্রাক ও মোটরসাইকেল মুখোমুখী সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মুন্না (১৫) নিহত হয়েছেন। নিহত মুন্না কাহালু উপজেলার জামগ্রাম ইউনিয়নের পানাই গ্রামের বুলবুল হোসেনের ছেলে।
জানা যায়, স্কুল ছাত্র মুন্না তার বন্ধু সিফাত কাহালুর বীরকেদার রাবেয়া পার্কে বেড়াতে যান। রাবেয়া পার্ক থেকে বের হয়ে দুপচাঁচিয়া হয়ে বাড়ী ফেরার পথে বগুড়াগামী অজ্ঞাতনামা ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মুন্না গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে দুপচাঁচিয়া ইসলামী হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় খালুর জানাজা পড়তে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় রেজাউল করিম (৪৫) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পদুয়া সিকদার দীঘিরপাড় এলাকায় পদুয়া মাদরাসার বিপরীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রেজাউল করিম কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের সৈয়দ আহমদের ছেলে।
নিহতের ভাই মুবিনুল করিম জানান, সকালে এক স্বজনের নামাজে জানাজায় অংশ নেয়ার জন্য সাতকানিয়ার বাঁজালিয়া থেকে মোটরসাইকেল যোগে চকরিয়া যাচ্ছিলাম আমরা ৩ ভাই, পদুয়া এলাকায় পৌঁছালে কক্সবাজারমুখী বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী ট্রলীর ধাক্কায় বড় ভাই ছিটকে পড়ে এবং ট্রলিটি তাকে পিষ্ট করে চলে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।



