হরমুজ প্রণালীতে নতুন নৌপথ চালুতে আগামীকাল মাসকটে বৈঠক

Printed Edition

আনাদোলু

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও ওমানের যৌথ পরিচালনায় একটি বিকল্প বাণিজ্যিক নৌপথ চালুর চুক্তি সম্পাদনে আগামী পরশু সোমবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে বসছেন আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। গতকাল শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পরবর্তীতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, মাসকাটের বৈঠকে নতুন নৌপথ সংক্রান্ত চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে (আইএমও) অবহিত করা হবে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ পরিচালনায় যেসব দেশের মাটি ব্যবহার করেছিল মার্কিন বাহিনী, সেসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি গতকাল শুক্রবার জানান, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি দেশের প্রতিনিধি এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইরান ও ওমানের যৌথ দ্বিপক্ষীয় সম্মতির ভিত্তিতে এই বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আয়োজক রাষ্ট্র ওমান এখনো বৈঠকের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, সরাসরি সামরিক অভিযানে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন এখন ইরানের ওপর জোরপূর্বক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির পথ বেছে নিয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত মূল হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব নয় বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। এর আগে সোমবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসিন রেজাই নিশ্চিত করেছিলেন যে ওমানের সাথে চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যার প্রবেশ ও বের হওয়ার পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতে। মার্কিন সামরিক চাপ সত্ত্বেও আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুসংহত রাখতেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে সাথে নিয়ে তেহরান এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।