বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসনে বাতিলকৃত ৩৭টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প চালু করা জনদাবি : সবুজ আন্দোলন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসন ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাতিলকৃত ৩৭টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প পুনরায় চালুর জোর দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠন ‘সবুজ আন্দোলন’। সংগঠনটির ৯ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা ও ‘গ্রিনম্যান অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।

সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: কামরুল আহসান। তিনি বলেন, লোডশেডিংসহ জ্বালানি সঙ্কটে জনগণ ভোগান্তিতে পড়লেও বিগত শাসনের ভুল নীতির কারণে তারা এখনো ধৈর্য ধরছে। তবে এ সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারের আর এক মুহূর্তও সময়ক্ষেপণ করা উচিত নয়। তিনি সবুজ আন্দোলনের দাবিগুলো দ্রুত সুবিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে বাপ্পি সরদার বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে এবং দৈনিক গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকের কাছাকাছি সরবরাহ করা হচ্ছে। কেবল আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর ভরসা না করে দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটাতে হবে। স্রেডার (ঝজঊউঅ) তথ্যমতে দেশে এক হাজার ৮২৬ মেগাওয়াটের বেশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা থাকলেও জাতীয় গ্রিডে এর অবদান মাত্র ১.৫ শতাংশ।

সঙ্কট উত্তরণে সবুজ আন্দোলনের পক্ষ থেকে ১১ দফা প্রস্তাব ও ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য : বাতিলকৃত ৩৭টি সোলার প্রজেক্ট অনতিবিলম্বে পুনরায় চালু করা। সরকারি-বেসরকারি ভবন ও শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলার দ্রুত স্থাপন এবং নেট মিটারিং সহজ করা। ডিজেলচালিত সেচ পাম্পকে পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তর করা। ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম (ইঊঝঝ) গড়ে তোলা এবং সৌর উপকরণের ওপর কর-শুল্ক ছাড় দেয়া। কৃষিজমি রক্ষা করে অনাবাদি ও খাস জমিতে নবায়নযোগ্য প্রকল্প গ্রহণ এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা।