মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতের আসল চেহারা খসে পড়ছে

পরাশক্তি হিসেবে ভারতীয় সমরবিদদের দাবি, জাতিসঙ্ঘে ভেটো ক্ষমতা করায়ত্ত করতে নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক বিশ্বে দৌড়ঝাঁপ, অর্থনৈতিক বিশ্বে হুঙ্কারের বিপরীতে আদতে তরুণদের সারা ভারতজুড়ে বিক্ষোভ বিশ্বকে ভারতের আসল চেহারা দেখিয়েছে। মোদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী নীতি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের শুধু প্রান্তিক করে তোলেনি বরং হিন্দুসহ সব ধর্মের তরুণরা রাজপথে নেমে আসায় ভারতের মৌলিক ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। মোদির শাসনামলজুড়ে গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণই এ জন্য দায়ী। এক দিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ অন্য দিকে গোদি মিডিয়ার অপপ্রচার, ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ক্রমবর্ধমান লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) মতো আইনি পরিবর্তনগুলোকে বহুত্ববাদের পদ্ধতিগত ক্ষয়ের প্রমাণ হিসেবে এখন স্পষ্ট।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে হিন্দুত্ববাদী আদর্শ ও শাসনের সংমিশ্রণ ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের পরিচয় গভীর বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে আরো তীব্র করে তুলেছে। পরাশক্তি হিসেবে ভারতীয় সমরবিদদের দাবি, জাতিসঙ্ঘে ভেটো ক্ষমতা করায়ত্ত করতে নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক বিশ্বে দৌড়ঝাঁপ, অর্থনৈতিক বিশ্বে হুঙ্কারের বিপরীতে আদতে তরুণদের সারা ভারতজুড়ে বিক্ষোভ বিশ্বকে ভারতের আসল চেহারা দেখিয়েছে। মোদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী নীতি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের শুধু প্রান্তিক করে তোলেনি বরং হিন্দুসহ সব ধর্মের তরুণরা রাজপথে নেমে আসায় ভারতের মৌলিক ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। মোদির শাসনামলজুড়ে গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণই এ জন্য দায়ী। এক দিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ অন্য দিকে গোদি মিডিয়ার অপপ্রচার, ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ক্রমবর্ধমান লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) মতো আইনি পরিবর্তনগুলোকে বহুত্ববাদের পদ্ধতিগত ক্ষয়ের প্রমাণ হিসেবে এখন স্পষ্ট।

বিজেপি সরকারের কট্টরপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী বক্তব্যে ভোটারদের হয়তো উৎসাহিত করেছে কিন্তু বাই প্রডাক্ট হিসেবে রাজনীতিতে বেশ কয়েকটি রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় সুশীলসমাজ বারবার হিন্দুত্ববাদের ঐতিহাসিক বিকৃতি সংশোধন করে জাতীয় গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য ভারতের শাসক দলের উন্নয়নমূলক ও কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন, কিন্তু মোদির নির্বাচনী বিজয়গুলো অধিকাংশ নাগরিকের বৈধ ও গণতান্ত্রিক সমর্থনেরই প্রতিফলন না ঘটিয়ে কার্যত ভারতকে চরমভাবে বিভক্ত করেছে।

দশকের পর দশকজুড়ে ভারতীয় জনগণের এই দ্বিধাবিভক্তি এখন ‘টিপস অব দি আইসবার্গ’। রাজপথে তরুণদের শিক্ষা সংস্কার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার দাবির আড়ালে কর্মসংস্থানের বুভুক্ষু চাহিদা জানান দিচ্ছে ভারতে রাজনীতির খোলনলচে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ২৫ বছরের কম বয়সী গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৪০ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে অন্তত ৭০ বার বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫২ বার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, যার ফলে লাখ লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। প্রশ্ন ফাঁসের কারণে বারবার পরীক্ষা দিতে বাধ্য হওয়া এবং বছরের পর বছর পড়াশোনা করেও চাকরি না পাওয়ার হতাশায় অনেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

অরুন্ধতী রায়ের ভয়াবহ রূপক

প্রখ্যাত লেখিকা অরুন্ধতী রায় ভারতের এই বর্তমান অবস্থাকে একটি ‘টিস্যু পেপারে মোড়ানো পচনশীল মৃতদেহের’ সাথে তুলনা করেছেন, যা থেকে এখন সব পচন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এই গভীর বেকারত্ব এবং অনিশ্চয়তা থেকেই মূলত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ছাত্র-যুব বিদ্রোহ সারা ভারতে সরাসরি সরকারের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। অরুন্ধতী বলেছেন, ‘ভাগ্যিস তারা বেশির ভাগই মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান বা আদিবাসী নয়! তা না হলে এতক্ষণ তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হতো বা জেলে পোরা হতো। তারা কাশ্মিরি নয় বলেও ভালো হয়েছে, তা না হলে অন্ধ করে দেয়া হতো, তারা বেশির ভাগই হিন্দু- এটিই হয়তো রক্ষা। ভারতের বর্তমান অবস্থা কতটা দুঃখজনক, এটি তারই প্রমাণ। মোদির কট্টর সমর্থক হিন্দু জনগোষ্ঠীর সন্তানরাই এখন রাজপথে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, সেনাবাহিনী বা পুলিশ তাদের নিজেদের সন্তানদের ওপর গুলি চালাবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

অরুন্ধতী বলেন, ভারতে একটি কথা প্রচলিত আছে, ‘চারজন এই দেশ চালায় : দুইজন বিক্রি করে, দুইজন কেনে আর চারজনই গুজরাটের’ (প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আম্বানি ও আদানি)। কিন্তু এই তরুণ প্রজন্মের সাথে তারা ইন্টারনেটে পেরে উঠছে না। মোদি বিদেশে গিয়ে যেসব অদ্ভূত সব ভাষণ দেন, এখন মানুষ তা নিয়ে হাসাহাসি করে। তিনি আর সেই আগের ভাবমর্যাদা ফেরত পাবেন না।’

অরুন্ধতী তেলাপোকা জনতা পার্টির আন্দোলনকে জনরোষের এক শক্তিশালী প্রতীক এবং একটি প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকারের বিরুদ্ধে অনন্য নাগরিক আন্দোলন হিসেবে দেখেন। আন্দোলনকে বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আপোসকৃত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের এক বৃহত্তর প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি এটিকে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপালে শাসন পরিবর্তন বা অতীতে ভারতীয় গণ-অভ্যুত্থানের সাথে সরাসরি তুলনা করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন, বরং এটিকে তার সময়ের এক অভূতপূর্ব, স্বতঃস্ফূর্ত ফল হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সহজে ক্ষমতা ছাড়বে না এবং দুর্বল তরুণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শক্তি ও সহিংসতা ব্যবহার করতে পারে।

প্রথাগত ও গম্ভীর রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিবর্তে এই বিদ্রোহে হাস্যরস, গান, নাচ ও বিদ্রƒপের ব্যাপক ব্যবহার দেখিয়ে শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবমর্যাদাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে এবং ব্যঙ্গাত্মক সেøাগানের মাধ্যমে বলছে যে, ‘সম্রাটের গায়ে কোনো পোশাক নেই’। অরুন্ধতীর মতে, মোদি সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা, আদালত ও মিডিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও এই তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বাস ও সাহসকে দমাতে হিমশিম খাচ্ছে। মূলধারার করপোরেট মিডিয়া সরকারের পক্ষ নিলেও স্বতন্ত্র ইউটিউবাররা এই আন্দোলনের খবর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

অরুন্ধতীর ভাষায়, এই আন্দোলন ভারতের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে মোদি সরকারের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্যকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। বহু বছর পর এই প্রথমবার নিজেকে একজন ভারতীয় হিসেবে পরিচয় দিতে চমৎকার লাগছে। ঠিক যখন মনে হচ্ছিল সব আশা হারিয়ে গেছে, তখনই এই আরশোলার দল বৃষ্টির সাথে উদয় হলো। এটি এমন এক প্রজন্ম যাদের বাবা-মা ও দাদা-দাদীরা মোদির মুখোশ পরে ‘মোদি মোদি’ স্লোগান দিয়ে তাকে ক্ষমতায় এনেছিল। বিজেপি নির্বাচন কমিশনের গঠন বদলেছে, ভোটার তালিকায় কারচুপি ও ইভিএম নিয়ে কারসাজি করেছে। আদালত মুখ ফিরিয়ে আছে, পুলিশ নিরপেক্ষ নয় এবং আমলারা পুরোপুরি এতে জড়িত এবং বড় বড় শিল্পপতিরা তাদের পেছনে থেকে মনে করে যা খুশি করতে পারবে। ভারতের সবচেয়ে দুষ্ট উপাদান হলো করপোরেট মালিকানাধীন মূলধারার মিডিয়া। তারা শুধু ভয় পায়নি, তারা সরকারের অংশ ‘চিৎকার করা টিভি’ কারণ তারা গণপিটুনি দেয়া মব-লিডারের মতো কাজ করে, মানুষকে অপমান করে এবং মিথ্যা বলে। অথচ তরুণরা পুলিশের কাছে গিয়ে বলছে ‘স্যার, খুব গরম লাগছে, আমাদের ওপর একটু জলকামান চালান না!’ এরপর তারা সেই পানিতে নাচছে। তারা পুলিশকে বলছে ‘আপনার লাঠি তো আমার চেয়েও লম্বা!’ এই আন্দোলন প্রথাগত ‘একঘেয়ে গান্ধীবাদী’ আন্দোলনের ছক ভেঙে ফেলেছে। ভারতের শাসন ব্যবস্থা চক্রান্তকারী গোষ্ঠীর শাসন। বিপরীতে তরুণ প্রজন্মের এই ‘উচ্ছ্বাস ও আনন্দ’ একনায়কতান্ত্রিক ভয়ের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

অঞ্জন দত্তের সংহতি

প্রখ্যাত শিল্পী অঞ্জন দত্ত চলমান আন্দোলনকে সম্পূর্ণ ‘ন্যায্য’ বলে অভিহিত করে বলেন, ৭৩ বছরের জীবনে (জন্ম ১৯৫৩) কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হইনি বা কোনো রাজনৈতিক মিছিলে অংশগ্রহণ করিনি। একজন ‘অস্তিত্ববাদী’ হিসেবে সমষ্টিগত শক্তির চেয়ে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের শক্তিতে বেশি বিশ্বাস করি বলেই ভারতের তরুণ প্রজন্মের এই ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে সমর্থন না করে পারি না। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও অহিংস উপায়ে তাদের দাবি জানাচ্ছে। এ জন্য একজন ভারতীয় হিসেবে আমি গর্বিত। গণতান্ত্রিক দেশে শিক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের এভাবে রুখে দাঁড়ানো অত্যন্ত ইতিবাচক। এই আন্দোলন ভারতের সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরো দৃঢ় করেছে।

অঞ্জন বলেন, আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেছি, আমি অহিংসায় বিশ্বাস করেছি... নির্বাচিত সরকার, আমি সংবিধানে বিশ্বাস করেছি এবং এখনো করি। আর যখন আমি দেখি লাখ লাখ তরুণ-তরুণী গণতান্ত্রিকভাবে, সাংবিধানিকভাবে, অহিংসভাবে লড়াই করছে, একজন ভারতীয় হওয়ার এই গর্ব আমাকে দেয়ার জন্য তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। একজন ভারতীয় হতে পেরে এমন একটি দেশে বাস করতে পেরে খুব গর্বিত, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা ক্ষেত্রে ঘটে চলা অন্যায়কে প্রশ্ন করছে। আমি তাদের সবাইকে স্যালুট জানাই এবং অসংখ্য ধন্যবাদ, অসংখ্য ধন্যবাদ।

এনডিটিভিকে যা বললেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর

এনডিটিভির পলিটিক্যাল এডিটর বসুধা বেনুগোপালকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শশী থারুর ছাত্রদের আন্দোলন, সরকারের ভূমিকা ও সংসদীয় গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। থারুর নিজে প্রতিবাদী ছাত্রদের সাথে দেখা করে তাদের অভাব অভিযোগ শুনেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রীদের পুরুষ পুলিশের হেনস্তা এবং সাধারণ পোশাকে থাকা ব্যক্তিদের নখ লাগানো লাঠি দিয়ে আন্দোলনকারীদের আঘাত একটি পরিপক্ব গণতন্ত্রের দেশে অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এটি সরকারের নৈতিক কর্তৃত্বের অভাব। বিরোধীদের কাজই হলো জাতীয় জনমতের প্রতিফলন ঘটানো এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্র ন্যায়’ এই আন্দোলন যন্তর মন্তরের প্রতিবাদের অনেক আগেই শুরু করেছিল। কিন্তু সরকার তা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

থারুর বিশ্বাস করেন যে, এই ছাত্র আন্দোলন শুধু ক্ষণস্থায়ী কোনো ঘটনা নয়। অনেক ছাত্র, এমনকি যাদের পরিবার আগে বিজেপিকে সমর্থন করত, তারাও এখন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়েছেন এবং এটি ভবিষ্যতে নির্বাচনি ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। তিনি এ সমস্যাটিকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জানান যে ছাত্রদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে জেদ ত্যাগ করে সংলাপে বসতে হবে এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে হবে।