ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে না : আসিফ মাহমুদ

Printed Edition
অস্থায়ী কার্যালয়ে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সংবাদ সম্মেলন :   নয়া দিগন্ত
অস্থায়ী কার্যালয়ে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সংবাদ সম্মেলন : নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এলসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা দল হিসেবে সাজানো কোনো নির্বাচন মেনে নেয়া হবে না।

গতকাল রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বিএনপি মনোনীত এক প্রার্থীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সতর্কবার্তা দেন।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, বিএনপির এক প্রার্থী তাদের আইনি সহায়তাকারী দলের সদস্যদের ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে গালি দিয়েছেন। এটাকে আমরা গালি হিসেবে নিচ্ছি না। আমরা মনে করি আমরা ‘ব্লাডি সিটিজেন’, আমরা এই বাংলাদেশের রক্তমাংসের নাগরিক। কিন্তু আমরা ‘ব্লাডি ফরেইনার’ না। আপনাদের মতো ব্লাডি ফরেইনারদের বাংলাদেশে নির্বাচনে অংশ নেয়া বা জনপ্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার নেই।

তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চালিয়ে এবং রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলে দ্বৈত নাগরিক ও জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।

বিপুল অঙ্কের ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, একেকজন ১৯০ কোটি, ২০০ কোটি বা ৫০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি। এই টাকা জনগণের। টাকা ফেরত না দিয়ে তারা বারবার নির্বাচনে আসছেন অথবা বিদেশে আয়েশি জীবন কাটাচ্ছেন।

নিজেদের দলের স্বচ্ছতার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন বাদে সবার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এটি প্রমাণ করে তারা প্রচলিত ‘লুটেরা’ রাজনৈতিক দলগুলো থেকে আলাদা এবং জনগণ এই ‘নতুন বন্দোবস্তের’ পথেই হাঁটবে।

নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনোভাবে দায়সারা বা সাজানো নির্বাচন করে পার পাওয়ার চিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন, আপনাদের পূর্বসূরীরা যারা গত তিনটি নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল, তাদের পরিণতি কী হয়েছে।

তিনি নির্বাচন কমিশনকে আশ্বস্ত করে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সর্বোচ্চ সদিচ্ছা দেখানো হলে জনগণ ও দল তাদের সহযোগিতা করবে। তবে নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো কারচুপি বা গড়িমসি সহ্য করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।