লোহাগাড়ায় রাতে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি

মোছাদ্দেক হোসাইন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
Printed Edition
পাহাড়ের মাটি কেটে নেয়ায় বসতবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে  : নয়া দিগন্ত
পাহাড়ের মাটি কেটে নেয়ায় বসতবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে দিনের বেলায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয় কাটার স্থান, আর রাত হলেই চলে পাহাড় কাটার কাজ- এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দক্ষিণে অবস্থিত একটি পাহাড়ে এ কার্যক্রম চলছে। গতকাল শুক্রবার সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় পাহাড়, ছোট-বড় টিলা এবং ফসলি জমির ওপরের মাটি (টপ সয়েল) কেটে ট্রাকে করে নিয়ে বিক্রি করছে। দিনের বেলায় পুরো এলাকা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখায় বাইরে থেকে বিষয়টি সহজে বোঝা যায় না।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আনোয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে একই এলাকার জসিম উদ্দিন ও কফিল উদ্দিনকে পাহাড় কাটার সাথে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে বাড়ি নির্মাণের জন্য জমি সমান করার কথা বলা হলেও বাস্তবে গভীরভাবে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। দু’টি স্কেভেটর ও একাধিক ডাম্প ট্রাক দিয়ে পাহাড় এবং পাহাড়ের অংশ বিশেষের মাটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ফুট গভীর করে কেটে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী রবিউল হোসেন বলেন, আমরা প্রায় ২০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। গত ১৮ মার্চ রাত থেকে স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা শুরু হয়। সারারাত চলে পাহাড় কাটা, ভোরের আগে ট্রাকে করে মাটি সরিয়ে নেয়া হয়। এখন আমার ঘরবাড়িই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পাশের অংশে আরো গভীর করে মাটি কেটে নেয়ায় যেকোনো সময় তার বসতঘর ধসে পড়তে পারে। এতে পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে শিশুদের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

আরেক বাসিন্দা জানান, পাহাড়টি সড়কের সাথে সংযুক্ত থাকায় এভাবে কেটে ফেলায় ভারী বৃষ্টিতে রাস্তা ধসে পড়তে পারে। এতে অন্তত ৮০ থেকে ৯০টি পরিবার চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়বে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কফিল উদ্দিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, পাহাড়, টিলা ও ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা

নেয়া হবে।