দেশে প্রথম বারের মতো বিরোধী দলে গিয়ে সরকারের প্রতি একটি সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী ১১ দলকে নেতৃত্ব দেয়া এই দলটি সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে একই সাথে ইস্যুভিত্তিক রাজপথেও সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছে দলটি।
জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দেয়। যারা বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের সাথে ক্ষমতার লড়াই করেছে। ফলাফলে বিএনপি জোট দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করলেও প্রতিটি আসনেই সমানতালে লড়াই করেছে জামায়াত জোট। বিএনপির ২১২ আসনের বিপরীতে মাত্র ৭৭ আসন পেলেও ভোটের সংখ্যায় তারা যথেষ্ট প্রতিযোগিতা করেছে। নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য মতে, প্রদত্ত প্রায় সাত কোটি ভোটের মধ্যে বিএনপি জোট পেয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট। আর জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট। প্রায় দুই কোটি ৮৮ লাখ নাগরিক এই জোটের ওপর তাদের আস্থা রেখেছেন। এটি একটি বিশাল ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ জনরায় হিসেবে মনে করছে জামায়াত। এর মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী অতীতের অনেক রেকর্ড ভঙ্গ করে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে মনে করছেন তারা। ২০০৮ সালে মাত্র দু’টি আসন থেকে এবার প্রায় তিন কোটি মানুষের সমর্থন জামায়াতের প্রতি জন আস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
এ অবস্থায় আগামী সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আমরা সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করব। একই সাথে রাজপথেও সক্রিয় থাকব। পরবর্তী নির্বাচনে জনগণের আরো ব্যাপকভিত্তিক আস্থা অর্জনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করব। আমরা আমাদের সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করব, দলীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করব এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবো। আমাদের এই পথচলা অব্যাহত থাকবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সাথে মিলে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে আমরা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করব, তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আমরা আপসহীন থাকব। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানেই জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকব। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয় বরং সংশোধন; বাধা দেয়া নয় বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সাথে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।



