মহেষখলায় ভারতীয় চোরাই পশুর হাট বিপাকে দেশী খামারিরা

Printed Edition
মহেষখলা হাটে ভারতীয় গরু বেচাকেনা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত
মহেষখলা হাটে ভারতীয় গরু বেচাকেনা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা

সরকারি কড়া নিষেধাজ্ঞা ও সীমান্ত নজরদারি উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জের নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুণ্ডা ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় অবাধে চলছে ভারতীয় গরু ও মহিষের চোরাই হাট। স্থানীয় মহেষখলা বাজারে প্রতি হাটের দিনে বসছে এসব চোরাই পশুর রমরমা হাট। সীমান্ত এলাকার একাধিক চোরাচালানি সিন্ডিকেট ও স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে এই অবৈধ ব্যবসা চলছে। এর ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে চরম লোকসানের মুখে পড়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন দেশীয় খামারিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তর বংশীকুণ্ডা ইউনিয়নের ভারতের সীমান্তবর্তী গুলগাঁও বাজার এবং বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন কাইতাকুনা, মাঝেরচড়া ও ঘিলাগড়া নামক স্থানগুলো চোরাচালানিদের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় একাধিক চক্র এলাকার নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের দৈনিক এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা মজুরি দিয়ে রাতের অন্ধকারে সীমান্তের ওপারে পাঠায়। এসব শ্রমিকেরা পাহাড়ি দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ভারতীয় আদিবাসী চোরাই চক্রের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে পশু ক্রয় করে দেশে পাচার করছে। বিএসএফের নজরদারি ফাঁকি দিয়ে আনা এসব পশু দিনের বেলায় সীমান্তের পাহাড়ের বিভিন্ন গুহায় ও নির্জন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে প্রতি মঙ্গলবার মহেষখলা বাজারের হাটের দিনে এসব চোরাই পশু প্রকাশ্যে বাজারে তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাজারের ইজারাদাররা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতি গরুর জন্য ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা এবং মহিষ প্রতি দুই হাজার টাকা টোল (হাসিল) আদায় করে বিশেষ রসিদ বা ‘স্যুটের’ মাধ্যমে এগুলোকে বৈধ করে দিচ্ছে। এরপর নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার নইহাটি গরুর হাট, ধর্মপাশা উপজেলা সদর বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা এসব পশু কিনে ট্রাক ও পিকআপে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় কসাইখানায় সরবরাহ করছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী অধিবাসীরা জানান, ভারতীয় গরুর আড়ালে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের গৃহপালিত গরুও চুরি করে পাচার করে দিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। ফলে এলাকায় গরু চুরি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতি রাতেই কোনো না কোনো এলাকায় গরু চুরি হচ্ছে। ভারতীয় গরু পাচার বন্ধ হলে এলাকার গরু চুরি বন্ধ হবে বলে জানান স্থানীয়রা। এ ছাড়া এই একই রুট ব্যবহার করে অবাধে আসছে ইয়াবা, গাঁজা, চিনি, নিম্নমানের প্রসাধনী ও নিম্নমানের জ্বালানি তেল (পেট্রল-অকটেন)। সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষর রয়েছে নীরব ভূমিকায়। ফলে অপরাধ বেড়েই চলেছে। কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

চোরাচালানের বিষয়ে মধ্যনগর থানার ওসি শাহাবউদ্দিন শাহীন বলেন, চোরাকারবারিদের সাথে প্রশাসনের কোনো আপস নেই। আমরা হাওরাঞ্চলে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে শত শত ভারতীয় গরু জব্দ করেছি এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে আইনের আওতায় এনেছি। আমাদের এই চিরুনি অভিযান ও কড়া নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।