কাদিয়ানি ও হিজবুত তাওহিদ নিষিদ্ধসহ ৭ দফা দাবিতে ওলামা কনভেনশন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিল, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ ও কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি। মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ কনভেনশন থেকে সরকারের কাছে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

মাওলানা আব্দুল আউয়াল পীর সাহেব ডিআইটির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। প্রধান আলোচক ছিলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী।

কনভেনশনে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেন, হিজবুত তাওহিদ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা দেশের শান্তি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে সংগঠনটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নিষিদ্ধের দাবি জানান।

ড. সরোয়ার তার বক্তব্যে সংসদে পাস হওয়া শ্রম আইন থেকে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ সম্পর্কিত বিষয়টি বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, এটি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক। অন্য দিকে মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী ধর্ম প্রতিমন্ত্রী পদে হানাফি মাজহাবের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কনভেনশন থেকে সরকারের কাছে পেশ করা সাত দফা দাবিগুলো হলো-

১. মহান আল্লাহ, রাসুল সা:, পবিত্র কুরআন ও ইসলাম অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস করা। ২. কুরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করা। ৩. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। ৪. কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা। ৫. পাঠ্যপুস্তকের ধর্মশিক্ষা বইয়ে নবীদের ও সাহাবিদের জীবনচরিত অন্তর্ভুক্ত করা। ৬. শ্রম আইন থেকে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দ বাতিল করে দ্বি-লিঙ্গ নীতি ঘোষণা করা। ৭. মুসলিম পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ে হাইকোর্টে স্বতন্ত্র শরিয়াহ বেঞ্চ গঠন করা।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক নৈতিকতা রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল হতে হবে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মুফতি মুহাম্মদ আবুল মালেক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা।