আমরা আর দাসত্বের মধ্যে থাকতে চাই না : প্রধান উপদেষ্টা

রোববার ইতালি যাচ্ছেন

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা আর দাসত্বের মধ্যে থাকতে চাই না। আমাদেরকে স্বনির্ভর হতে হবে। এখন যেহেতু পরনির্ভর হয়ে আছি এর থেকে যত দ্রুত সম্ভব বের হওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর বাইরে আর কোনো কথা নেই।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণকে মসৃণ ও টেকসই করার লক্ষ্যে প্রণীত মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্য গঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরেন।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ; কিন্তু ব্যবসায়ীরা চাচ্ছে এই উত্তরণ যেন আরো তিন বছর পিছিয়ে দেয়া হয়; কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবসায়ীদের এই দাবি দৃশত নাকচ করে দিয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন যে, ‘এই জাতির যথেষ্ট ক্ষমতা আছে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য। তারুণ্য ও সৃজনশীলতা আমাদের শক্তি। এই শক্তি আর সুযোগ আমাদের আছে। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। আত্মনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলে জাতিকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে হবে। আমরা আর দাসত্বের মধ্যে থাকতে চাইনা।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন- অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, কৃষি উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, এনবিআর চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

রোববার ইতালি যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা : এ দিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামে যোগ দিতে আগামী রোববার ইতালি যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, ১২ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামে যোগ দিতে রোমে যাচ্ছেন এবং পাশাপাশি তিনি উচ্চপর্যায়ের অনেকের সাথে বৈঠকও করবেন।

তিনি জানান, এসব বৈঠকে খাদ্যনিরাপত্তা, দারিদ্র্যনিরসন এবং টেকসই উন্নয়নসহ নানা বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম মূলত জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। সেখানে সারা বিশ্বের নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও গবেষকরা খাদ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্ট ইতালির রোমে অবস্থিত এফএওর সদর দফতরে ১০ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

ভিসা জটিলতা নিরসনে নির্দেশনা : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসাজনিত জটিলতা দূরীকরণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত প্রচেষ্টার নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য জানিয়ে বলেন, পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে আমাদের নতুন নতুন শ্রমবাজার তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক সফরে প্রধান উপদেষ্টা আলবেনিয়ার প্রেসিডেন্ট ও কসোভোর প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। দু’টি দেশই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে আগ্রহী।

প্রেস সচিব জানান, পূর্ব ইউরোপীয় যেসব দেশ রয়েছে তাদের কারো বাংলাদেশে কোনো দূতাবাস নেই। বাংলাদেশীদের ভিসা পেতে দিল্লি যেতে হয়। এ ভিসা জটিলতা কিভাবে দূর করা যায় সে বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে, সামনে আরো সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভিসা জটিলতা আগের সরকারের আমল থেকে সৃষ্ট বলে জানান শফিকুল আলম।

সরকার ডাক বিভাগকে যুগোপযোগী করতে কাজ করছে : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার ডাক বিভাগকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করে যুগোপযোগী করতে কাজ করছে। কেবল সেবা প্রদানে সীমাবদ্ধ না থেকে এটি স্থানীয় অর্থনীতির কার্যকর ওয়ান স্টপ সেন্টার হবে বলে আমি আশা করি।

আজ ৯ অক্টোবর ‘বিশ্ব ডাক দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব ডাক দিবস’ যথাযথ গুরুত্ব ও মর্যাদার সাথে উদযাপন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে আমি অভিনন্দন জানাই।’’

ডাক বিভাগ কেবল একটি সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয় উল্লেøখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি আমাদের সমাজের একটি অন্যতম প্রাচীন এবং বিশ্বস্ত সামাজিক প্রতিষ্ঠানও বটে। বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে ডাকঘর সমাজের সর্বশেষ প্রান্তিক মানুষটির কাছেও বার্তা পৌঁছানোর ক্ষমতা রাখে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডাকঘরগুলোকে শুধুই বার্তা আদান-প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে সীমিত না রেখে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে রূপান্তর করা প্রয়োজন।