কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

পিরোজপুরে এডিপির টেন্ডার জালিয়াতি

Printed Edition

পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের আওতায় নেয়া তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর (সিএ) ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করা এবং তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, তিনটি প্রকল্পের কাজ নিজেদের পছন্দের ব্যক্তি ও স্বজনদের পাইয়ে দিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের চেষ্টা করা হয়। তাদের দাবি, পিরোজপুর জেলার সব বৈধ লাইসেন্সধারী ঠিকাদারদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও চূড়ান্ত লটারিতে জিয়ানগর উপজেলার কোনো ঠিকাদারের নাম ছিল না। এতে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির ই-জিপি (ইজিপি) পদ্ধতির তথ্য ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সরকারি একটি দফতরের গোপন পাসওয়ার্ড কোনো উপজেলা কর্মচারীর কাছে কিভাবে পৌঁছাল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফারুক হোসেন বলেন, এসডিআর পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে কাজ বণ্টনের কথা থাকলেও জিয়ানগরের কোনো লাইসেন্সধারীকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। তার অভিযোগ, জালিয়াতির মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।

ঠিকাদারদের অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো: হাফিজুর রহমান টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং ইয়াসির আরাফাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

উপজেলা প্রকৌশলী এমরান আহম্মেদ খান বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টেন্ডার-সংক্রান্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। অল্প সময়ের কাজে কিছু ভুল-ত্রুটি হতেই পারে।

তবে ইউএনও হাসান মো: হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে কিছু অনিয়মের তথ্য সামনে আসে। এ কারণে টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে সরকারি বিধি অনুযায়ী নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে ইয়াসির আরাফাতের মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

উল্লেখ্য, ইয়াসির আরাফাত এর আগে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদে কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের পর গত ১১ মে তাকে জিয়ানগরে বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে অতীতেও সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, ফাইল ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।