চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পাহাড়ঘেরা প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা বাওয়াছড়া লেক ও ঝরনা এখন ভ্রমণপিয়াসীদের নতুন আকর্ষণ। কৃত্রিম লেকের শান্ত জলরাশি, পাহাড়ি ঝরনার অবিরাম স্রোত, চার পাশে সবুজ বনানী ও অতিথি পাখির কলতান মিলিয়ে বাওয়াছড়া যেন প্রকৃতির নান্দনিক এক ক্যানভাস। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সী মানুষই এখানে এসে খুঁজে পান প্রশান্তির ছোঁয়া।
মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই লেকটি দুই পাশের সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে গড়ে উঠেছে। পাহাড়চূড়া থেকে নেমে আসা ঠাণ্ডা স্বচ্ছ পানি ঝরনার মতো লেকে মিশে এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বর্ষা মৌসুমে ঝরনার কলকল শব্দ আর পানির প্রবাহ প্রকৃতির সজীবতা আরো বাড়িয়ে তোলে। অনেক পর্যটক চাঁদের আলোয় ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে তাঁবু টাঙিয়ে রাতযাপনও করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়ের ভেতরে অবস্থিত হরিণমারা, হাঁটুভাঙ্গা ও আমতলি ঝরনাগুলোর সাথে বাওয়াছড়ার সংযোগ এ এলাকাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক এখানে ভিড় করেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় যাতায়াতও তুলনামূলক সহজ। আঁকাবাঁকা মেঠোপথ পেরিয়ে বারমাসি ছড়ার মুখে পৌঁছালেই চোখে পড়ে নীল আকাশের নিচে সবুজে মোড়ানো বাওয়াছড়া লেক। আশপাশে স্থানীয়দের ফলবাগান ও কৃষিজমি এ সৌন্দর্যে যোগ করেছে গ্রামবাংলার ছোঁয়া।
তবে পর্যটকদের অভিযোগ, এখনো এখানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। মিঠানালা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি শাখাওয়াত হোসেন ও সাবরিন সুলতানা বলেন, ‘স্থানটি অসাধারণ সুন্দর। সরকারিভাবে উন্নয়ন হলে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে।’ পর্যটক আলতাফ হোসেন রাজু মনে করেন, ইকো ট্যুরিজম প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাওয়াছড়া লেককে একটি টেকসই পর্যটন গন্তব্যে রূপ দেয়ার সুযোগ এখনই কাজে লাগানো প্রয়োজন।



