লক্ষ্মীপুরে দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ ভোগান্তিতে শতাধিক পরিবার

Printed Edition
লহ্মীপুর পৌরসভা সড়কের মুখে দেয়াল নির্মাণে আটকে পড়া বাসিন্দারা	 : নয়া দিগন্ত
লহ্মীপুর পৌরসভা সড়কের মুখে দেয়াল নির্মাণে আটকে পড়া বাসিন্দারা : নয়া দিগন্ত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পৌরসভার একটি সড়কের প্রবেশমুখে গেট ও মাঝখানে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবী পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে শতাধিক পরিবারের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও বয়স্ক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের স্থিতাবস্থা নির্দেশনা উপেক্ষা করে এ কাজ করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পৌর প্রশাসন। অভিযুক্তরা হলেন লক্ষ্মীপুর আদালতের আইনজীবী আবু তৈয়ব ও তার ছেলে শরফুদ্দীন চিশতী। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে তারা দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রায় এক লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে পৌর শহরের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে হাসনা বানু সড়কটি ইটের সলিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন করে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা। স্থানীয়দের দাবি, পৌরসভার উন্নয়ন কাজের আগেও তারা এ পথ ব্যবহার করতেন।

সম্প্রতি অভিযুক্ত পরিবার সড়কটির প্রবেশমুখে একটি গেট এবং মাঝখানে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে শতাধিক পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতেও গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দেওয়ানি আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ থাকা সত্ত্বেও সড়কটি বন্ধ করা হয়েছে। উচ্চ আদালত পৌরসভাকে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পাশাপাশি মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগও করেন তারা। তবে অভিযুক্ত আইনজীবী শরফুদ্দীন চিশতী দাবি করেন, সড়কটি তাদের নিজস্ব জমির ওপর জোর করে নির্মাণ করা হয়েছিল। তাই তারা জমি পুনরুদ্ধারের জন্য দেয়াল নির্মাণ করেছেন। তবে দেওয়ানি আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় কাজটি করা হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক সম্রাট খীসা বলেন, চলাচলের সড়কে দেয়াল নির্মাণের বিষয়টি তার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে অবগত হওয়ার পর তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।