এবিসি নিউজ
তীব্র অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎসঙ্কটের মধ্যে থাকা কিউবার ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিউবার বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ খাত সচল রাখার যন্ত্রাংশ আমদানিকারক কোম্পানিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান নিশানায় রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর নাতি ফিদেল এরনেস্তো কাস্ত্রো। পাশাপাশি দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি আমদানিকারক কোম্পানি ‘আবাপেত’কেও এ তালিকায় রাখা হয়েছে। জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ খাত টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ আমদানির দায়িত্বে রয়েছে এই কোম্পানি। নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ‘অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারসে’র প্রধান ব্রেট এরিকসন জানান, কিউবার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল করে দিয়ে সেখানকার বিদ্যুৎ সঙ্কট আরো ঘনীভূত করাই ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার সরকার পতন ছাড়া আর কোনো পরিবর্তনে সন্তুষ্ট নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই অবস্থান থেকে কোনোভাবেই সরবেন না।’ বিশেষজ্ঞ এরিকসন ধারণা করছেন, টিকে থাকার স্বার্থেই কিউবা সরকার যেকোনো উপায়ে এই নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যন্ত্রাংশ জোগাড়ের জন্য তাদের বিকল্প ও সৃজনশীল পথ খুঁজতে হবে, যা হবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর ফলে কিউবায় মূল্যস্ফীতি আরো বাড়বে এবং দেশটির অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক ছোট ছোট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিশানা বানিয়ে সেগুলোকে ‘মৃত্যুচক্রে’ ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এরিকসন।
জরাজীর্ণ বিদ্যুৎব্যবস্থা ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে পুরো কিউবায় ব্ল্যাকআউট এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে, জানুয়ারির শেষে কিউবাকে তেল সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তারপর থেকেই জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার নেয়। এরিকসন বলেন, ‘ওয়াশিংটনের মূল পরিকল্পনা হলো সাধারণ মানুষের কষ্ট এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া, যাতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে বাধ্য হয়। এটি মূলত কৃত্রিমভাবে মানবিক সঙ্কট তৈরির চেষ্টা।’ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানিসঙ্কটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কিউবার সাধারণ নাগরিকরা। ৪৯ বছর বয়সী কিউবান নারী ইয়াকুলিন বের্নাল জানান, গত রোববার থেকে তাদের বিদ্যুৎ নেই। তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বেশি চিন্তা ছোট আটটি নাতি-নাতনিকে নিয়ে। বিদ্যুৎ না থাকলে আমরা পানিও পাই না। আমাদের পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা জানা নেই।’ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক সংবাদ সম্মেলনে কিউবার উপপ্রধানমন্ত্রী ও বৈদেশিক বিনিয়োগমন্ত্রী অস্কার পেরেজ-ওলিভা ফ্রাগা মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেন। পরে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, ‘পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর ঠাণ্ডা মাথায় কষ্ট চাপিয়ে দিয়ে মানবিক সঙ্কট তৈরি করা একটি বড় অপরাধ। অবিলম্বে এই নিপীড়ন ও অর্থনৈতিক অবরোধ বন্ধ করে কিউবাকে শান্তিতে বাঁচতে দেয়া হোক।’ একইভাবে মেক্সিকোতে কিউবার রাষ্ট্রদূত ইউজেনিও মার্তিনেজ এনরিকেজ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ‘বিবেকহীন মিথ্যাবাদী’ আখ্যায়িত করেছেন।
তবে কিউবার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্স-এ দাবি করেন, যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তারা দুর্নীতিগ্রস্ত ‘কাস্ত্রো অর্থ ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের’ অংশ। রুবিও লেখেন, ‘কিউবার কমিউনিস্ট শাসকগোষ্ঠী একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। সাধারণ মানুষ যেখানে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে কাস্ত্রো পরিবার ও তাদের ঘনিষ্ঠরা অবৈধ উপায়ে সম্পদ বাড়াচ্ছে।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি কিউবাকে ‘মুক্ত করতে’ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও দাবি করেছেন রুবিও।



