দ্য হিন্দুস্থান টাইমস
আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পর ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ‘বিজয় দিবস’ উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চলেছে তালেবান। ১৭ অগাস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আফগান দূতাবাসে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর দিল্লিতে প্রথম এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারেরই ইঙ্গিত। নয়াদিল্লির আফগান দূতাবাসে তালেবান সরকারের নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নূর আহমেদ নূর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজক।
এতে কূটনীতিকরাসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আফগান প্রবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা জানান, ২০২১ সালের অগাস্টে আশরাফ গনি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আফগান দূতাবাস যেভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করত, এবারের আয়োজনটিও তেমনই হতে চলেছে।
তবে তফাত হলো, আফগান তালেবানের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিতে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক আয়োজন। অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করার কথা রয়েছে। তবে ঠিক কারা এতে অংশ নেবেন, তা এখনো জানা যায়নি। অন্যান্য দেশের মতো ভারতও তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানের কোন প্রতীক, বিশেষ করে পতাকা তুলে ধরা হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্রে নূর আহমদ নূরকে ভারতে ‘ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান দূতাবাসের’ চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত প্রচারবিমুখ নূর আহমদ নূরকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দিল্লিতে বিভিন্ন দেশের আয়োজিত কিছু কূটনৈতিক সংবর্ধনায় দেখা গেছে। তবে আগামী ১৭ আগস্টের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটিই হবে তার প্রথম বড় ধরনের প্রকাশ্য আয়োজন।
তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর দিল্লির আফগান মিশনে প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে গত জানুয়ারিতে ভারতে যান নূর আহমদ নূর। এরপর থেকে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে ভারতের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় তালেবানের সাথে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
নূর এর আগে কাবুলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘প্রথম রাজনৈতিক বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের অক্টোবরে তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ঐতিহাসিক ভারত সফরের সময় সফরসঙ্গী দলেও ছিলেন তিনি। এটিই ছিল কোনো শীর্ষ তালেবান নেতার প্রথম ভারত সফর। আর ওই সফরের পরই নয়াদিল্লি ভারতে তালেবান কূটনীতিকদের দায়িত্ব নেয়ার অনুমতি দেয়। বর্তমানে মুম্বাই ও হায়দরাবাদে আফগান কনস্যুলেটের দায়িত্বে রয়েছেন আরো দুই তালেবান কর্মকর্তা, ইকরামউদ্দিন কামিল ও হাবিবুর রহমান আফতাব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির মুত্তাকির সফরের পর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থিত ভারতের ‘টেকনিক্যাল মিশন’কে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে উন্নীত করে নয়াদিল্লি। সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ পদক্ষেপ আফগানিস্তানের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর করার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।


