কাঠমান্ডু পোস্ট
নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) তরুণ নেতা বলেন্দ্র শাহ। তবে তার এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় শাস্ত্রীয় আচারের এক অনন্য সংমিশ্রণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার আরএসপির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বলেন্দ্র শাহকে পার্লামেন্টারি দলের নেতা ঘোষণা করা হয়। এর আগে স্পিকার অর্জুন নরসিংহ কেসির কাছে নবনির্বাচিত ২৬৫ এমপি শপথ গ্রহণ করেন।
আরএসপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পার্লামেন্টারি দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হতে পারেন। গত ২৮ ডিসেম্বর দলের সভাপতি রবি লমিছান্নে ও শাহের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী এই মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।
বলেন্দ্র শাহ ও তার পরিবার জ্যোতিষশাস্ত্রে গভীর বিশ্বাসী হওয়ায় শপথের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে। আরএসপির সাধারণ সম্পাদক কবিন্দ্র বুড়লাকোটি জানিয়েছেন, শপথের শুরুতে সাতজন শঙ্খবাদক শঙ্খনাদ করবেন। এ ছাড়া ১০৮ জন বৈদিক পুরোহিত ‘স্বস্তি শান্তি’ পাঠ করবেন ও ১৬ বৌদ্ধ ভিক্ষু ‘অষ্টমঙ্গল’ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে শুভ করার আচারে অংশ নেবেন। শপথ গ্রহণ শেষে বেলা ২টা ১৫ মিনিটে তিনি সিংহ দরবারে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্যোতিষশাস্ত্র মেনে শপথের সময় নির্ধারণ করায় নেপালের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিদায়ী অর্থমন্ত্রী রামশোর খানাল ফেসবুকে এই প্রথার সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘এই ধরনের বিলাসিতার সময় আমাদের আগে ছিল না, তবুও ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।’
শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ তার মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করছেন। মন্ত্রী পদের জন্য সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন- স্বর্ণিম ওয়াগলে, শিশির খানাল, ডিপি আরিয়াল ও ড. তোশিমা কার্কির মতো পরিচিত মুখগুলো। তবে দলের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে মন্ত্রী ও স্পিকার পদের নামগুলো স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে আরএসপি সূত্রে জানা গেছে।



