এস আলম-পিকে হালদারসহ ১৩ জনের দুর্নীতি মামলায় আরো ৩ জনের সাক্ষ্য

Printed Edition

আদালত প্রতিবেদক

জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৩৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আরো তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

সাক্ষীরা হলেন- আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও মোহাম্মদ মোদাচ্ছের হাসান, যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরের সহকারী নিবন্ধক অনন্ত কুমার পাল এবং ডিপোজিট অপারেশনসের এভিপি ও হেড অব সিআরএম মিদহাত আজিজ।

আদালতের স্টেনোগ্রাফার সোহানুর রহমান জানান, সাক্ষীদের মধ্যে মিদহাত আজিজের জেরা শেষ হয়েছে। অপর দুই সাক্ষীর জেরা এখনো হয়নি। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর তাদের জেরার জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলাটিতে ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এস আলম, পিকে হালদারসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো: ইসহাক ও মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ওইদিন মামলার বাদি দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবিল হক সাক্ষ্য দেন। এরপর ২২ জুন পাঁচজন, ৮ জুলাই চারজন এবং ১৯ জুলাই একজন সাক্ষ্য দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব এ এম ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করেন। পরে একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ওই ঋণ বিতরণ করা হয়। ঋণের অর্থ পরে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে গত ১৬ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা তাহাসিন মুনাবীন হক।