নাম পরিবর্তন করে মেধা যাচাই শিরোনামে আয়োজনের উদ্যোগও ব্যর্থ
- আইনি জটিলতায় পণ্ড প্রাথমিক, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ডিপিইর কূটকৌশল
শাহেদ মতিউর রহমান
প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা আবারো স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থীকে বাদ দিয়ে কেবল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও আদালতে রিট পিটিশন দায়েরের পর সেই পরীক্ষা স্থগিত হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কিছু কর্মকর্তার কূটকৌশলে বৃত্তির নাম পরিবর্তন করে ‘মেধা যাচাই’ শিরোনামে একই পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে নাম পরিবর্তন করেও সেই উদ্যোগ আইনি জটিলতায় পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পক্ষ থেকে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো: আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর ২০২৫) রুল জারিসহ এক মাসের জন্য পরীক্ষার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেন।
এ আদেশের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) গত ১১ নভেম্বরের স্মারক (১৯ নভেম্বর ২০২৫ স্বাক্ষরিত) অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত মেধা যাচাই পরীক্ষার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। উল্লেখ্য, এই পরীক্ষা আগামী ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
এই স্মারকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কেরানীগঞ্জ পাবলিক ল্যাবরেটরি স্কুলের পরিচালক মো: ফারুক হোসেন ও দু’জন অভিভাবক ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত মেধা যাচাই পরীক্ষা এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, ফলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা হচ্ছে না।
আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা আয়োজন করা হাইকোর্টের গত ৩ নভেম্বরের রায়ের লঙ্ঘন। এর আগে ১৭ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এক স্মারকে জানায়, কেবল সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৩ নভেম্বর হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করেন। একই সাথে ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরিচালনা নীতিমালার আলোকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগ্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিয়ে বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দেন আদালত। এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিঠি ইস্যু করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই রায় স্থগিত চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর লিভ টু আপিল করলেও বিষয়টি এখনো শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
এ দিকে হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশের পর অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীরা সবাই সমান এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে বৈষম্য করা উচিত নয়। তাদের মতে, এক শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করে অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়া হলে তা শিক্ষার্থীদের মানসিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আদালতের আদেশকে তারা যথাযথ বলেই মনে করছেন।



