লালমোহনে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলে গ্রাহক হয়রানি

ভুক্তভোগীর অভিযোগ জুন মাসে হঠাৎ ৮০ হাজার টাকার বিল

Printed Edition

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

ভোলার লালমোহনে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, মিটারে কারসাজি, অনিয়ম এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে বিল তৈরি, বিল পরিশোধের পরও বকেয়া দেখানো এবং নতুন মিটারের জন্য ঘুষ দাবির মতো ঘটনায় সাধারণ গ্রাহকরা দিশেহারা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তীব্র লোডশেডিং এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার।

প্রতি মাসেই অসংখ্য গ্রাহকের নামে অস্বাভাবিক বিল আসার তথ্য পাওয়া গেছে। লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিকার পেতে গ্রাহকরা বিলের কাগজ হাতে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। ক্যাশ কাউন্টার, অভিযোগ ডেস্ক কিংবা বিলিং সহকারীর কক্ষ- সবখানেই ভোগান্তির চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীরা সমস্যা নিয়ে এলে অফিসের স্টাফরা, বিশেষ করে কয়েকজন নারীকর্মী, অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী মো: জাহিদুল ইসলাম জানান, তার জুন মাসের বিলে বর্তমান মিটার রিডিং দেখানো হয়েছে ৭৯২৫ কিলোওয়াট। অথচ ২১ জুন বাস্তবে মিটার পরীক্ষা করে তিনি দেখেন ৭৮৯৪ কিলোওয়াট। মিটার না দেখেই অফিসে বসে কাল্পনিক বিল তৈরি করা হয়েছে। এই জালিয়াতির বিষয়ে বিলিং সহকারী তানজুমার কাছে জানতে চাইলে তিনি অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে বলেন, ৩১ ইউনিট বেশি লেখায় আপনারই লাভ হয়েছে, কারণ বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তার বিলটি রেখে দিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

আরেক ভুক্তভোগী ৪নং ওয়ার্ডের ফাতেমা বেগম ২০১৮ সালে মিটার বন্ধ করে অন্য এলাকায় চলে যান। দীর্ঘ ৮ বছর পর চলতি বছরের জুন মাসে তার নামে হঠাৎ ৮০ হাজার টাকার ভুতুড়ে বিল আসে। মিটার বন্ধ থাকার পরও কীভাবে এই বিপুল অঙ্কের বিল এলো, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। চরভুতিল ইউনিয়নের হারুন আর রশিদ জানান, প্রতি মাসে স্বাভাবিক বিল আসলেও এবার হঠাৎ তিন গুণ বেশি বিল এসেছে। অফিসে যোগাযোগের পর কর্মকর্তারা কোনো সমাধান না দিয়ে উল্টো আগে পুরো বিল পরিশোধের চাপ দিচ্ছেন। গ্রাহকদের দাবি, এই অফিসে দক্ষ ও আন্তরিক জনবল নিয়োগ দেয়া জরুরি।

সার্বিক বিষয়ে লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাহমুদুল হাসান বলেন, অসাবধানতাবশত অনেক সময় বিলে রিডিং বেশি আসতে পারে। অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত সংশোধন করি। ফাতেমা বেগমের সমস্যাটি ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। গ্রাহক হয়রানির কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।