সংসদ প্রতিবেদক
- অশালীন বক্তব্য ও ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা দুঃখজনক : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
- সমালোচকদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে : হাসনাত আবদুল্লাহ
- হত্যাকারীদের একজনকেও কি আমরা শাস্তি দিতে পেরেছি? রেজা কিবরিয়া
- ‘নির্মূল’ শব্দটা ইতিবাচক রাজনীতি সংস্কৃতি বহন করে না : ডেপুটি স্পিকার
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে সরকার ও বিরোধীদলের সদস্য প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এই আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিরোধীদলের মত দমনের জন্য মামলা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে লেখার কারণে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হুইপকে সমালোচনা করলে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বিরোধীদলের সমালোচনার জবাবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজীব হাসান বলেছেন, সরকারের সমালোচনা বা কার্টুন করায় বাধা নেই। কিন্তু সমালোচনা ও আন্দোলনের নামে অশালীন বক্তব্য ও ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা দুঃখজনক। যারা সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে নোংরা অপপ্রচার চালিয়েছে, বিরোধীদল তাদের পুরস্কৃত করে এমপি হিসেবে পাঠিয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত ১৮ মাস যে সরকারটি (অন্তর্বর্তী) ছিল তা মূলত বিরোধীদল তথা জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সমর্থিত সরকার হিসেবে কাজ করেছে। সেই সময়ে যারা ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকে বিশেষ সুবিধা বা আরামে ছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুবিধা না থাকাতেই তাদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা ও অস্বস্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তারা। প্রথমে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে দুইজনের বক্তব্যের সময়ে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনা ছিল। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় সদস্যরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রতিমন্ত্রী মো: রাজীব আহসান বলেন, আগে তারা যখন খুশি প্রধান উপদেষ্টার বেডরুম কিংবা সচিবের রুমে ঢুকে যেতেন, এখন সেই অনৈতিক সুযোগ বন্ধ হওয়ায় বিরোধী শিবিরের নেতারা সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় অস্থিরতা প্রদর্শন করছেন। বিরোধীদলকে অতীতের আরাম আয়েশের কথা ভুলে গিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে সরকারি দলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেয়া তথ্যের কঠোর সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪০০ শহীদের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা এক অনুষ্ঠানে কীভাবে এক হাজার ২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার দাবি করেন। একে তিনি ইতিহাসের নতুন বিকৃতি এবং ‘শহীদ ব্যবসা’র অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যেমন ব্যবসা চলেছে, জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনো ব্যবসা এই প্রজন্ম সহ্য করবে না। অবিলম্বে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে।
এরআগে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্টুন শেয়ার করে বিভিন্ন স্যাটায়ার, বিভিন্ন মবকারীকে প্রমোট করছে, বিরোধী মতকে প্রমোট করছে, সেখানে এই সংসদ গঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ৯টা ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মত প্রকাশের জন্য বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা খুব আশাহত হই, যখন এত রক্ত, এত লড়াই, এত ত্যাগের পরে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। কিন্তু এই সংসদ আবার আগের সেই বিষের সাইকেল, দোষারোপের সাইকেল, বিভিন্ন ট্যাগিংয়ের সাইকেল, মত দমনের নামে, বিরোধী মত দমনের নামে মামলার যে সাইকেল, আমরা সেখানে আবার চলে গেছি। মত প্রকাশের স্বাধীনতা আওয়ামী লীগের সময় ছিল, তবে সহমত প্রকাশের। আবারো সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নির্মূলের রাজনীতি, বিনাশের রাজনীতি, দমনের রাজনীতি, পীড়নের রাজনীতি যদি আমরা বাংলাদেশে আবার পরিচিত করি, সেখান থেকে এই সংসদের কেউ বেনিফিটেড হবে না। বেনিফিটেড হবে যারা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়েছে। সেই অপশক্তি বেনিফিটেড হবে। সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের সময় গেস্টরুম, গণরুমের কালচার ছিল। সেখানে দেখেছি, ক্ষমতাসীন দল কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে তাদের ক্ষমতা কাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি করার জন্য বাধ্যতামূলক রাজনীতি করাত। এখন আবার গেস্টরুম-গণরুম কালচার চালু করার প্রয়াস শুরু হয়েছে। বাধ্যতামূলক রাজনীতির কালচার শুরু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা তাদের সন্তানদেরকে বিদেশে রেখে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করেন। আর মধ্যবিত্ত সন্তানরা যাদের বাবা-মা কলকারখানায় কাজ করে, তাদের সন্তানদের ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদরা ব্যবহার করে তাদের ক্যারিয়ারে ঝুঁকিতে ফেলে, নিজেদের সন্তানকে বিদেশে রেখে নিরাপদে রাখে আর পরের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। আমরা এই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। তিনি বলেন, মত প্রকাশ নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই।
বিরোধীদলকে টুকুর কটাক্ষ
জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিরোধীদল ‘একক কৃতিত্ব’ দাবি করার প্রবণতা রয়েছে বলে সমালোচনা করেছেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে এমনভাবে কথা বলা হচ্ছে, যেন ‘শুধু একটি পক্ষই’ আন্দোলন করেছে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ৭১ মনে করে যে আওয়ামী লীগই করছে, আর কেউ যুদ্ধ করে নাই। এ রকম আচরণ আওয়ামী লীগ করছে। ইদানীং ওই রোগ তাদের ভেতরে ঢুকছে। জুলাই আন্দোলন খালি তারাই করছে, আর কেউ করে নাই।
জুলাই আন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল, ‘তা মানুষ জানে’ মন্তব্য করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ওই সময় তিনি কারাগারে ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারও তার পাশে ছিলেন। আমি ম্যাক্সিমাম সময় তাকে আমার বালিশটা দিতাম শোয়ার জন্য। কিন্তু কারো দাবি এক রকম, আর বাস্তবতা আরেক রকম। এক টেলিভিশনে দেখলাম শিবিরের সভাপতি বলছে, উনি নাকি ওই টাইমে বাজার করেছেন। আর ছাত্রদলের সভাপতি রাস্তায় আহত হয়েছে পুলিশের দ্বারা। তাহলে জুলাই আন্দোলন নিয়ে কার কী ভূমিকা? তিনি আরো বলেন, কথায় কথায় বলে ফেলেন, নিঃশেষ করে দেবেন। কাদেরকে? নিশ্চিহ্ন করে দেবেন, কাদেরকে? আপনারা ৯৬ সালে ভুল করেছিলেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসার সুবিধা করে দিয়েছিলেন। এখনো ভুলের রাজনীতিতে আছেন। ৮৬তেও করেছেন, ৯৬তেও করেছেন। আগামী দিনে কোনো আন্দোলন বা সংগ্রাম হলে তা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা
আগামী দিনে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বাংলাদেশকে এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে অন্য দেশগুলো বাংলাদেশকে অনুসরণ করে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এখন জামায়াত এত খারাপ হয়ে গেল?
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো: ইজ্জত উল্লাহ বলেন, জামায়াত আপনাদের (বিএনপি) সাথে দীর্ঘ দিন আন্দোলন করেছে, জোটগতভাবে ক্ষমতায় এসে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনও করেছে- এখন জামায়াত এত খারাপ হয়ে গেল? কারা কটাক্ষ করছেন তারা কী জানেন না? অনেকেই জামায়াতকে নির্মূলের কথা বলছেন, আমরা চাই আপনারা জনগণের আস্থা অর্জন করুন। আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে সহযোগিতা করতে চাই।
একই দলের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, সমালোচনা করার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। বিরোধীদলীয় নেতা বারবার বলেছেন, জাতীয় সঙ্কটে আমরা সহযোগিতা করব। তিনি বলেন, জনগণ ৭০ ভাগ ভোট দিয়ে গণভোট পাস করল, আর আপনারা বলছেন, অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন, জনগণ কী তা বিশ্বাস করতে পারে?
এ সময় সভাপতির চেয়ারে বসা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, আপনার বক্তব্যে বলেছেন, আপনাদের দলকে নির্মূলের কথা কেউ কেউ বলেছেন। শুনেনি এসব কথা। তবে, নির্মূল করার এই শব্দটা ইতিবাচক রাজনীতি, সংস্কৃতি বহন করে না।
আস্থার ঘাটতি : বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে আস্থার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। আমরা বারবার করে বলেছি, আমার প্রধানমন্ত্রী বারবার করে বলেছেন, জুলাই সনদের মধ্যে যা যা লেখা আছে অক্ষরে অক্ষরে সেটা বাস্তবায়ন করব আমরা। তবে আমার বিরোধীদলের বন্ধুরা এটা বিশ্বাস করতে রাজি না। দীর্ঘ নির্যাতনের অভিজ্ঞতার’ কারণে হয়ত বিরোধীদল এখন কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। তবে সংসদের দুই পাশেই নির্যাতিত মানুষ আছেন।
রাস্তা ও হাসপাতালের দুরবস্থা
রাস্তা, হাসপাতাল ও স্থানীয় হামলার অভিযোগ তুলে ধরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, তার এলাকার মানুষ দীর্ঘ দিন সুযোগ সুবিধা পায়নি। ফুলপুর ও তারাকান্দায় আইডিভুক্ত রাস্তাগুলোর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ পাকা; এর মধ্যেও অনেক রাস্তা ‘অচল’ অবস্থায় রয়েছে। এলাকার মানুষ তাকে ‘আলেম হিসেবে বিশ্বাস করে’ সংসদে পাঠিয়েছে, কারণ আগের প্রতিনিধিরা ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি’। কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি বাস্তবায়ন, আলেমদের শিক্ষকতায় যুক্ত করা, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা চালু এবং মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।
ময়মনসিংহ-৯ আসনের এমপি ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আমাদের এমন কিছু করা ঠিক হবে না, ফ্যাসিস্টরা যেভাবে পালিয়ে গেছে, সেই পরিণত যেন আমাদেরও না হয়। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাল কেটে কুমির আনবেন না। দেশের স্বার্থে এক সাথে কাজ করতে হবে।
হত্যাকারীদের একজনকেও কি আমরা শাস্তি দিতে পেরেছি?
হবিগঞ্জ-১ আসনের সরকার দলীয় এমপি রেজা কিবরিয়া বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের হত্যাকারীদের একজনকেও কি আমরা শাস্তি দিতে পেরেছি? ৭১ ও জুলাই শহীদরা উচ্চমানের মানুষ। জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে কোনো লাভ নেই। হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার করুন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আরো বক্তৃতা করেন, বেসরকারি বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খান, মেহেরপুর-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজমুল খান, বাগেরহাটের আবদুল আলিম, গাইবান্ধা-২-এর আবদুল করিম, টাঙ্গাইল-৫ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিক, গাইবান্ধা-৩ আসনে নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সরকারদলীয় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান দীপু, বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমীর হামজা, ঢাকা-২০ আসনের মো: তমিজ উদ্দিন, সাতক্ষীরা-২ আসনের মো: আবদুল খালেক, ভোলা-৪ আসনের নুরুল ইসলাম নয়ন।



