সীমান্তে হত্যায় ডাকসুর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ, কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ দাবি

Printed Edition

ঢাবি প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে গত রোববার দুই বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গত রোববার মধ্যরাতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দুই বাংলাদেশী যুবক ইব্রাহিম রিংকু (২৮) ও মমিন মিয়াকে (২৯) নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে পদ্মা নদীতে নিক্ষেপ করেছে।

গতকাল বুধবার ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে বিএসএফ নিয়মিতভাবে বাংলাদেশী নাগরিকদের গুলি করে হত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়।

বিবৃতিতে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বারবার ‘হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার’ প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য মতে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএসএফ-এর গুলি ও নির্যাতনে প্রায় ৬৫৩ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন এবং সহস্রাধিক আহত হয়েছেন। কিশোরী ফেলানীর কাঁটাতারে ঝুলে থাকা লাশ কিংবা স্বর্ণা দাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্ববিবেককে নাড়া দিলেও বিএসএফ-এর মনোভাব বদলায়নি। এসব হত্যাকাণ্ডের আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা বিচার হয়নি। একই সাথে চলতি বছরে ভারত থেকে প্রায় দুই হাজার মানুষকে অবৈধভাবে ‘পুশ-ইন’ করে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে রোহিঙ্গা ও ভারতীয় নাগরিকও রয়েছে-যা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এতে আরো বলা হয়, সীমান্তে এই ধরনের বর্ডার ভায়োলেন্স ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত থাকার প্রধান কারণ হলো পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নতজানু ও দুর্বল পররাষ্ট্র নীতি এবং জুলাই বিপ্লবের পরেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর অবস্থানের অভাব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডাকসু জরুরি ভিত্তিতে দাবি জানিয়েছে যে, বিএসএফ কর্তৃক সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কূটনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে, সীমান্ত হত্যার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে উত্থাপন করে বিচার নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।