আমাদের মুখগহ্বরে বাস করে অসংখ্য অণুজীব। এদের মধ্যে কিছু আছে উপকারী আবার কিছু নির্দিষ্ট পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে হতে পারে তির কারণ।
ক্যানডিডা অ্যালবিক্যনস (ঈধহফরফধ অষনরপধহং) নামক এক ধরনের ছত্রাক আমাদের মুখ ও খাদ্যনালিতে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। মুখগহবরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে এ ছত্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে জিব্বা মাড়ি, তালু বা ঠোঁটে সাদা ত ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। এ সংক্রমিত অবস্থাকে বলে ওরাল ক্যান্ডিডিয়াসিস।
কেন হয়, কাদের হয়?
১. সাধারণত যাদের রোগপ্রতিরোধ মতা কম; তারা খুব সহজেই এ রোগ দ্বারা সংক্রমিত হতে পারেন। এইচআইভি বা এইডস, ক্যান্সার বা কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি গ্রহণকারী রোগী, শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁঁকিতে রয়েছেন।
২. দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে উপকারী জীবাণু মারা যায় যা ছত্রাক বৃদ্ধিতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
৩. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস মুখের লালায় চিনির মাত্রা বাড়িয়ে ছত্রাক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
৪. কৃত্রিম দাঁত বা ডেঞ্চার নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে।
৫. তামাক ও ধূমপানের ব্যবহার মুখের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়; যার ফলে অতি দ্রুত ছত্রাক সংক্রমণ বাড়ে।
৬. অ্যাজমা ও ফুসফুসের রোগে ভোগা রোগীদের নিয়মিত করটিকোস্টেরয়েড ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়। এটি ফাঙ্গাস বিকাশের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
৭. এ ছাড়াও লালাগ্রন্থির রোগ, নিয়মিত দাঁত ও জিব্বা পরিষ্কার না করা হতে পারে ছত্রাক বৃদ্ধির কারণ।
লণ ও উপসর্গ
১. জিব্বা, গালের ভেতরের অংশে, ঠোঁট ও তালুতে সাদা ক্রিম বা দুধের মতো ব্যথাযুক্ত আস্তরণ দেখা যায় যা ঘষলে লাল ত সৃষ্টি হয়।
২. ঝাল ও মসলা জাতীয় খাবারে জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়।
৩. মাড়িতে সাদা সাদা দাগ দেখা যায়।
৪. খাবার গিলতে কষ্ট হয় ও স্বাদ পাওয়া যায় না।
৫. মুখের ভেতর লালা শুকিয়ে আঠালো অবস্থা তৈরি হয় ও রুচি নষ্ট হয়।
৬. অনেক সময় ঠোঁটের কোণে ব্যথাযুক্ত ফাটল দেখা যায়।
৭. কারো কারো েেত্র জ্বর থাকে।
চিকিৎসা
সাধারণত এন্টিফাঙ্গাল ওষুধের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করা হয়। পাশাপাশি কিছু ভিটামিন সাপ্লিমেন্টও দেয়া হয়। এ রোগ সারাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। রোগের তীব্রতার ওপর চিকিৎসার সময় কাল ও ঔষধের ডোজ নির্ভর করে। এ সময় ভাজাপোড়া, তেল মশলা ও ঝাল জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হয়।
প্রতিরোধে পদপে
১. নিয়মিত দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার করতে হবে।
২. কৃত্রিম দাঁত থাকলে তার সঠিক পরিচর্যা ও ঘুমের আগে খুলে রাখতে হবে।
৩. চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অধিক মাত্রায় দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করা যাবে না।
৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৫. পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে ও ভিটামিন সি জাতীয় ফল খেতে হবে।
৬. ইনহেলার ব্যবহারের পরে প্রতিবার পানি দিয়ে কুলকুচি করবে ও ইনহেলার পরিষ্কার রাখবে।
৭. চিনিযুক্ত খাবার, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে।
৮. অতিমাত্রায় মাউথ ওয়াশের ব্যবহার কমাতে হবে। ইন্টারনেট।



