সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ভারতের কলকাতায় হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশীর দুইজনের বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে।
নিহত একজনের নাম এস এম আলিমুজ্জামান ওরফে সাজু (৪৫)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস আলী সরদারের ছেলে। সাজু পেশায় একজন মাছের ব্যবসায়ী। নিহত অপরজনের নাম রেবতী রানী সরকার। তিনি একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেষ কুমার সরকারের স্ত্রী।
এ দিকে নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া ও তেঁতুলিয়া গ্রামের পরিবেশ। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের সাথে এখন স্বজনদের একটাই আকুতিÑ তাদের লাশ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
নিহত সাজুর নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে সাজু সবার ছোট। মেজ ভাই রাজু সরদার মারা গেছেন বেশ আগে। বড় ভাই সাহেব সরদার ও সেজ ভাই উজ্জ্বল সরদার জীবিত আছেন। কোমরে ব্যথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে পাঁচ-ছয় দিন আগে সাজু ভারতে যান। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল তার; কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যু হয়েছে।
সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে আমার ভাই চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়। হঠাৎ টেলিভিশনে দেখি কলকাতার একটি হোটেলে আগুন লেগেছে। পরে জানতে পারি, ওই হোটেলেই আমার ভাই অবস্থান করছিল। একজন আত্মীয়কে সেখানে পাঠানো হয়। পরে ছবির সাথে লাশের মিল পাওয়ার পর নিশ্চিত হই, আমার ছোট ভাই আর নেই। কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আমার ভাইয়ের লাশটা যেন দ্রুত দেশে এনে আমাদের কাছে দেয়া হয়। আমরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই।
এ দিকে নিহত রেবতী রানী সরকার ও স্বামী ভবেষ সরকার কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। তাদের ছেলে অনিক সরকার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে এবং মেয়ে ত্রিশা সরকার ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। তারা বর্তমানে ভারতের উত্তরাখন্ডে অবস্থান করছেন।
রেবতীর স্বজন তপন সরকার বলেন, রেবতী আমার বৌদি। গতকাল রাতে বৌদির ছেলের সাথে কথা বলে জানতে পারি, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে একটি হোটেলে আগুন লেগে বৌদি মারা গেছেন। দাদা বাংলাদেশে ছিলেন, তবে এখন তার সাথেও ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, দাদা-বৌদির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, তারাও ভারতে আছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি কিভাবে এই শোক সামলাবে, সেটিই এখন বড় চিন্তার বিষয়।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহিনুর রহমান জানান, আলিমুজ্জামান ওরফে সাজু ও রেবতী সরকার নামের দুইজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ পৃথক দুইজনের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
সাতীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, ভারতের হাইকমিশন থেকে লাশ দুটো দ্রুত প্রেরণের ব্যবস্থা করছে তারা। পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যোগাযোগ করেছে।



