ভোটের মাঠে সরব বরিশাল বিভাগের ৩ নারী প্রার্থী

বরিশাল ও ঝালকাঠির তিনটি আসনে এই তিন নারী প্রার্থী ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। ব্যক্তিগত যোগ্যতা, পেশাগত পরিচিতি এবং আর্থিক স্বচ্ছতার কারণে ভোটারদের মধ্যেও তাদের নিয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই তিন নারী সংসদ প্রার্থীরা হলেন- বাসদের মনীষা চক্রবর্তী, এনসিপির ডা: মাহমুদা আলম মিতু এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো
Printed Edition

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতিতে আলোচনায় রয়েছেন তিন নারী প্রার্থী। বরিশাল বিভাগের তিনটি আসনে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা। এর মধ্যে দুইজন পেশায় চিকিৎসক (এমবিবিএস) এবং একজন ব্যবসায়ী ও সাবেক সংসদ সদস্য। ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ প্রার্থীদের টপকে বিজয় নিশ্চিত করাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল ও ঝালকাঠির তিনটি আসনে এই তিন নারী প্রার্থী ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। ব্যক্তিগত যোগ্যতা, পেশাগত পরিচিতি এবং আর্থিক স্বচ্ছতার কারণে ভোটারদের মধ্যেও তাদের নিয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই তিন নারী সংসদ প্রার্থীরা হলেন- বাসদের মনীষা চক্রবর্তী, এনসিপির ডা: মাহমুদা আলম মিতু এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।

বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা সমন্বয়কারী ও পরিচিত মুখ ‘গরিবের ডাক্তার’ মনীষা চক্রবর্তী। হলফনামা অনুযায়ী তিনি একজন এমবিবিএস পাস চিকিৎসক এবং অবিবাহিত। তার বার্ষিক আয় দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৩২৮ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে চার লাখ ৬৪ হাজার ৬৯৪ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৯২৮ টাকা। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দু’টি মামলার একটি থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন, অপরটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে নিম্নআয়ের মানুষের বিশেষ করে শ্রমিক, অটো ও রিকশা চালকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এমবিবিএস চিকিৎসক ডা: মাহমুদা আলম মিতু। তার হলফনামায় দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকা। হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার স্বামীর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৪৫ লাখ ৭৯ হাজার ৬৯৪ টাকা। ব্যাংকে জমাসহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং স্বামীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লাখ ৪২ হাজার ২৬৮ টাকা। নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ঝালকাঠির রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। তিনি সাবেক এমপি জুলফিকার আলী ভুট্টোর সহধর্মিণী। তিনি এইচএসসি পাস এবং পেশায় ব্যবসায়ী। বাড়িভাড়া ও ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৭৩ হাজার ৪৫৩ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ২১ লাখ ৩১ হাজার ৬০২ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তার মোট সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। সাবেক এমপি হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তবে দলীয় কোন্দল মিটিয়ে সবাইকে একত্রিত করাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভোটের মাঠে বড় চ্যালেঞ্জ : বিএম কলেজ বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর জাহান আরা বেগম বলেন, বরিশাল বিভাগের তিন নারী প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সামাজিক অবস্থান বেশ শক্ত হলেও নির্বাচনী বাস্তবতায় তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক কাঠামো ও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবেলা করা।

তবে এই তিন প্রার্থীর অংশগ্রহণ বরিশাল বিভাগের নির্বাচনী মাঠে নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি ও নেতৃত্বের পথকে আরো সুসংহত করবে।