এএফপি
দীর্ঘ বহুল প্রতীক্ষিত একটি বড় ধরনের সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করেছে লেবাননের পার্লামেন্ট। দেশটির স্পিকারের কার্যালয় জানিয়েছে, কারাবন্দী ও পলাতক ব্যক্তিদের ক্ষমা প্রদান এবং ব্যতিক্রমীভাবে সাজা কমানোর লক্ষ্যে খসড়া আইনটি অনুমোদন করা হয়েছে। ১৯৯১ সালের গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী আইনের পর লেবাননে এটিই প্রথম সাধারণ ক্ষমা আইন, যা রাজবন্দী ও সাধারণ আসামিসহ হাজার হাজার মানুষকে মুক্তি বা সাজা কমানোর সুবিধা দেবে।
আইনপ্রণেতা ইমাদ আল-হুতের দেয়া তথ্যমতে, নতুন এই আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের শাস্তি কমিয়ে ১৭ বছরে নির্ধারণ করা হয়েছে। লেবাননের কারাবিধি অনুযায়ী এক বছরকে নয় মাস হিসেবে গণ্য করা হয়, যা প্রকৃতপক্ষে ১২ বছর ৯ মাসের মেয়াদের সমান। বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে বছরের পর বছর বিচারে বিলম্ব এবং কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দীর চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দেশটির জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গত বছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের জেলখানাগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে ৩০০ শতাংশ বেশি আসামি ছিল এবং গত মার্চ পর্যন্ত সেখানে ছয় হাজার ২৬৮ জন কয়েদি বন্দী ছিলেন।
২০২৪ সালে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর এই আইন পাসের বিষয়ে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়। বিশেষ করে উত্তর লেবাননের সুন্নি অধ্যুষিত ত্রিপোলির অনেক ইসলামপন্থী কয়েদি সিরিয়া যুদ্ধ-সংক্রান্ত মামলায় সেনা হামলা বা নাশকতার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। বুধবার রাতে আইনটি অনুমোদনের খবর পৌঁছালে ত্রিপোলিতে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও আতশবাজি ফুটিয়ে কয়েদিদের স্বজনেরা উল্লাস প্রকাশ করেন। সামাজিকভাবে সুন্নি ছাড়াও ইরান-সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্বাঞ্চলীয় বালবেক ও হারমেলের বাসিন্দারা মাদক ও গাড়ি চুরির মামলায় ক্ষমার দাবি জানিয়ে আসছিল। অন্য দিকে খ্রিষ্টান দলগুলো ২০০০ সালে ইসরাইল সেনা প্রত্যাহারের পর পালিয়ে যাওয়া দক্ষিণ লেবাননের প্রক্সি বাহিনীর সদস্যদের দেশে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করতে এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলে। এর আগে ১৯৯০ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর লেবাননে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছিল, যা তৎকালীন যুদ্ধাপরাধী নেতাদের মূলধারার রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেয়।


