খাস জমি দখলের মহোৎসব স্থাপনা নির্মাণে সক্রিয় চক্র

Printed Edition
খাস জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা স্থাপনা	: নয়া দিগন্ত
খাস জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা স্থাপনা : নয়া দিগন্ত

সোহেল মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের পতনের পর থেকে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাস জমি দখল করে বিক্রি ও স্থাপনা তৈরির হিড়িক পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভূমিখেকো সিন্ডিকেট। এতে এক দিকে যেমন রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ বেহাত হচ্ছে, অন্য দিকে ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পতিত সরকারি খাস জমি দখল করে ব্যক্তিমালিকানায় রূপ দেয়া হচ্ছে। কোথাও গড়ে তোলা হচ্ছে পাকা দালানকোঠা, কোথাও খনন করা হচ্ছে মাছ চাষের পুকুর, আবার কোথাও মোটা অঙ্কের টাকায় জমি বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই তাণ্ডব চললেও প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ভূমিখেকোদের এই তাণ্ডবের হাত থেকে উপজেলার একমাত্র পর্যটন স্পটও রক্ষা পাচ্ছে না।

সরেজমিন উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা-হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ পর্যটন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এই বহুল পরিচিত পর্যটন এলাকাজুড়ে প্রভাবশালী ভূমিখেকোরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের ছত্রছায়ায় শহীদ স্মৃতিসৌধের সরকারি খাস ভূমি বেহাত হচ্ছে। একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এখানে খাস জমি দখল করে বেচাকেনা করছে ও পাকা বসতবাড়ি তৈরি করছে। কেউ আবার মাছের পুকুর খনন করছেন, কেউবা রিসোর্ট করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার বোগলাবাজার, নরসিংপুর ও সুরমা ইউনিয়নেও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলা ভূমি অফিসের একশ্রেণীর অসাধু কর্মচারীর নীরব সহযোগিতায় দেদার খাস ভূমি দখল ও বিক্রি চলছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও তা স্থায়ী সমাধান আনছে না। উচ্ছেদের পর দখলদাররা আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে এই উচ্ছেদ অভিযানকে অনেকেই লোক দেখানো বলেই মনে করছেন। প্রশাসন যদি সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আন্তরিক হতো, তবে বারবার এমন ঘটনা ঘটত না। উচ্ছেদের পর আর কোনো তদারকি বা নজরদারি থাকে না।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, খাস ভূমি দখলমুক্ত করতে এবং উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি স্থানীয় সবার প্রতি আহ্বান জানান।