চট্টগ্রাম ব্যুরো
দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, তরুণরা আমাদের দেখিয়েছে তারা পারে। এখন জ্ঞানের জেহাদ প্রয়োজন। জ্ঞানের বিপ্লব তারুণ্যের বিজয়কে নিশ্চিত করবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নে আবিষ্কারক ও বিজ্ঞানীর প্রয়োজন রয়েছে। জাতি তাকিয়ে আছে তরুণদের দিকে। তিনি বলেন, গুগলের ওপর, প্রযুক্তির ওপর, মেশিনের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল থাকা উচিত নয়। এই নির্ভরতা মানুষকে অথর্ব করে তোলে। ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, সারা বিশ্বে দু’শ’ কোটি মুসলমান রয়েছে। কিন্তু আজ মুসলমানরা সর্বত্র নির্যাতিত। মুসলমানদের একটা স্বর্ণযুগ ছিল। সেই স্বর্ণযুগ ধ্বংস করা হয়েছে। ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণযুগ তরবারির মাধ্যমে হয়নি, জ্ঞানের মাধ্যমে হয়েছিল। ইউরোপ সভ্য হয়েছিল মুসলমানদের মাধ্যমে। ইউরোপে রেনেসাঁ এসেছে মুসলমানদের কাছ থেকে। আমরা মুসলমানদের গৌরবময় ইতিহাস ভুলে গেছি বলে সমস্যা হচ্ছে।
গতকাল শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি)-এর বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের আয়োজনে কুমিরায় আইআইইউসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত টেক ফেস্ট ২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- আইআইইউসির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং বাংলালিংক-এর নেটওয়ার্ক স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পারফরম্যান্স ডিরেক্টর হাসনাত রেজা মাহবুব আলম। গেস্ট অব অনার ছিলেন- বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের এমডি ও সিইও ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান, আকিজ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের হেড অব অপারেশন মো: তওহিদুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকম্যুনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মো: ইব্রাহীম রূপম ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মো: আবুল হাসান। স্বাগত ও ধন্যবাদ জ্ঞাপক বক্তব্য রাখেন ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকম্যুনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, টেক ফেস্ট-২০২৫ অর্গানাইজিং কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি যথাক্রম মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও কনভেনর প্রফেসর মোহাম্মদ সামসুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা যখন ইসলামী সভ্যতার কথা বলি, তখন শুধু কত বড় সাম্রাজ্য ছিল বা কত শক্তিশালী খেলাফত ছিল এগুলো নিয়ে আলোচনা না করে বরং মুসলমানরা জ্ঞান ও বিজ্ঞানে কতটা অগ্রসর ছিল, সেটি নিয়ে কথা বলা উচিত। জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসর হওয়ার কারণেই মুসলমানরা সে সময় সমগ্র বিশ্বের জন্য আদর্শ হয়ে উঠেছিল। আপনারা কোথায় চাকরি পেলেন বা কত বড় কর্মকর্তা হলেন এগুলো আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনাদের মধ্যে কতজন বিজ্ঞানী হতে পারলেন, কতজন উদ্ভাবক হতে পারলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসির ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, বিজ্ঞানী হয়ে দেশকে কিছু দিতে হবে। প্রযুক্তিতে উন্নয়নের মাধ্যমে আজ বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেকে যোগ্য করে দেশসেবায় নিয়োজিত করতে হবে। আমরা ব্রিটিশের গোলামির কথা বলি; কিন্তু বিজয়ের ইতহিাস বলি না। তিনি বলেন, প্রজ্ঞা সেই পাবে, যে আল্লাহকে ভয় পাবে। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে নয়া দিগন্ত, আমার দেশ ও এখন টিভিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।



